Header AD

শালিক পাখির সমান ব্রেন টিউমার! রেফার না করে বাঙ্গুর হাসপাতালেই সফল অস্ত্রোপচার

M R bangur

মাথায় অস্বাভাবিক বড় একটি মাংসপিণ্ড। আকারে প্রায় একটি শালিক পাখির সমান। দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫ সেন্টিমিটার, চওড়ায় ২০ সেন্টিমিটার। সেই বিশাল টিউমারের (Brain Tumor operation) চাপে তীব্র যন্ত্রণা ও মাথাব্যথায় ভুগছিলেন মগরাহাটের বাসিন্দা তপন হালদার। শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার এম আর বাঙুর হাসপাতালে ( M R Bangur Hospital) সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর মাথা থেকে ওই টিউমার অপসারণ করা হল। রোগীকে শহরের বড় হাসপাতালে রেফার না করে নিজস্ব ব্যবস্থাতেই জটিল এই অপারেশন সম্পন্ন করল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের সুপার ডা. শিশির নস্কর পুরো সার্জারি টিমকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এই জটিল অস্ত্রোপচারের নেতৃত্ব দেন সার্জন ডা. নিলয় নারায়ণ সরকার। ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল—সঠিক উদ্যোগ ও দক্ষতায় জেলা বা সরকারি হাসপাতালেও জটিল চিকিৎসা সফলভাবে সম্ভব।

ষাট বছরের তপন হালদারের মাথার বাঁদিকে ৪৫ বছর ধরে একটি মাংসপিণ্ড বাসা বেঁধে ছিল। বহু হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে দেখানো হলেও কোনও উপকার মেলেনি। পরিবার সূত্রে জানা যায়, তপনবাবুর বয়স যখন প্রায় পনেরো, তখনই মাথায় এই মাংসপিণ্ডটি প্রথম দেখা দেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি ক্রমশ বড় হতে হতে বিশাল আকার ধারণ করে। অবশেষে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটের হরিশঙ্করপুরের বাসিন্দা তপনবাবু ভর্তি হন এম আর বাঙুর হাসপাতালে। চিকিৎসকদের মতে, চিকিৎসা পরিভাষায় এই ধরনের টিউমারকে বলা হয় “এসওএল”। এই ধরনের টিউমারের মধ্যে মাংসপিণ্ডের পাশাপাশি নরম টিস্যুও থাকে, যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলে বড় আকার নিতে পারে।

সার্জন ডা. নিলয় নারায়ণ সরকারের কথায়, তপনবাবুর টিউমারের ভিতরে নরম, মাখনের মতো একটি অংশ ছিল যা অস্ত্রোপচারকে আরও জটিল করে তুলেছিল। তবুও বৃহস্পতিবার প্রায় কয়েক ঘণ্টার সফল অস্ত্রোপচারের পর আপাতত স্থিতিশীল তপনবাবু। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অপারেশনের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত এড়াতে ডায়াথার্মি প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়। তার ফলেই মাত্র ১০ মিলিলিটার রক্তপাতের মধ্যেই সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়েছে এই জটিল অস্ত্রোপচার। এবার টিউমারটির বায়োপসি করা হবে, যাতে এর প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়। গোটা অস্ত্রোপচার টিমে ছিলেন ডা. অনুভব সাহা, অ্যানাস্থেশিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. ব্রজেন্দ্রনাথ দাস, ডা. হিমালয় দত্ত এবং ডা. সরফরাজ রহমান।