Header AD

‘আধিকারিক বদলে দাঙ্গা করিয়েছে’, রামনবমীতে রঘুনাথগঞ্জে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ, কড়া বার্তা তৃণমূল নেত্রীর

cm on raghunathgunj

রামনবমীতে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। এই ঘটনার জেরে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হলেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অফিসারদের সরিয়ে দেওয়ার ফলেই এলাকায় অশান্তি ছড়িয়েছে। তাঁর কথায় “সিউড়িতে বন্দুক উঁচিয়ে মিছিল করেছে। আমি জানি না প্রশাসন কেন ব্যবস্থা নেয়নি। রঘুনাথগঞ্জে (Raghunathgunj) বিজেপি রামনবমীতে অশান্তি করেছে। আধিকারিক বদলে দাঙ্গা করিয়েছে। বেহালায় বুলডোজার দিয়ে বেশ কিছু দোকানে ভাঙচুর করেছে। আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমার হাতে কিছু নেই। কিন্তু যে দোকান বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে দিয়েছে আমি আবার করে দেব। ” দোষীদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার রামনবমীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে রঘুনাথগঞ্জে উত্তজনা ছড়ায়। সিসাতলা এলাকায় একটি মিছিল পৌঁছলে গান বাজানো নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বচসা শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তা সংঘর্ষের রূপ নেয়। দুই পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি শুরু হয়, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, শহরের ফুলতলা মোড় এলাকায় পৌঁছনো আরেকটি বড় মিছিল ঘিরেও উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, সেখানে ভাঙচুর চালানো হয় এবং কয়েকটি দোকানে আগুন লাগানো হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

শনিবার রানিগঞ্জের (Ranigunj) খান্দরা ফুটবল মাঠে নির্বাচনী জনসভা থেকে এই প্রসঙ্গে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনিক বদলি ঘটিয়ে দাঙ্গার পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “১০০ আধিকারিককে তামিলনাড়ুতে বদলি করা হয়েছে। অফিসারদের সরিয়ে দিয়ে কে দাঙ্গা বাধানোর অধিকার দিল? বাইরে থেকে টাকা ঢোকানো হচ্ছে। রেল থেকেও নামে। সেন্ট্রাল পুলিশের গাড়িতে টাকা আসে।কাউকে ছাড়া হবে না। মানুষ তোমাদের বিচার করবে। ” এরপরই প্রশাসনকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “খবর আমরাও রাখি। নাকা চেকিং করবেন।” পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমানে দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা নিরপেক্ষভাবে কাজ করে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনবেন।

নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন স্তরে প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে প্রথম থেকেই প্রশ্ন তুলেছিল রাজ্যের শাসকদল। এই বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি , কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলেই আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে, যা রঘুনাথগঞ্জের ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। এদিন তিনি কমিশনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠে বলেন, “সব কিছুর লক্ষ্মণরেখা থাকে। কমিশন লক্ষ্মণরেখা পার করে গেছে।” কমিশনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তাঁর হুঙ্কার “আগুনে পা দিয়ে খেলবেন না।” এমনকি এদিনের সভা থেকে কমিশনকে ‘ভ্যানিশ ওয়াশিং কমিশন’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।

ভোটমুখী বঙ্গে প্রতিটি রাজনৈতিক দল নিজস্ব রণকৌশল নিয়ে প্রচারে ময়দানে ঝাঁপিয়েছে। নির্বাচনী জনসভায় সরকারি প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি আগামীর অঙ্গীকার ঘোষণাও চলছে। নির্বাচনী জনসভা থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন শান্তি সম্প্রীতি বজায় রাখায় বার্তা দিচ্ছেন তেমনি প্রয়োজনে মা বোনেদের রুখে দাঁড়ানোর নিদানও দিচ্ছেন। এদিনের সভা থেকে তাঁর কড়া বার্তা,” ইভিএম খারাপ হলে সেই মেশিনে আর ভোট দেবেন না। ভোট শেষ হওয়া থেকে গণনা পর্যন্ত মা বোনেরা পাহারা দেবেন। বিজেপিকে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে জবাব দেবেন।”