“তোমরা সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী। দেশটাকে ধ্বংস করছ। ওরা কংস। তাই দেশকে করেছে ধ্বংস।“ অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের (Bishnupur Election Campaign) সভা থেকে থেকে বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
মঙ্গলবার তৃণমূল প্রার্থী তন্ময় ঘোষের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভামঞ্চ থেকে বিজেপিকে লাগাতার নিশানা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো (TMC)। ফের এদিন মমতা বলেন, “বিহারে ভোটের আগে ৮ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। তারপর কী হল? ফুস! মানুষ ওদের গ্রহণ করেনি।” তাঁর এই মন্তব্যে সভায় উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে জোর প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। মমতার অভিযোগ, ‘বাংলা ভাষায় কথা বললে বিহার, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশে পেটাচ্ছে। হোটেলে থাকতে পর্যন্ত দিচ্ছে না। বাংলায় নাকি সব অনুপ্রবেশকারী। আমি বলি তোমরা সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী। বাংলাকে হিংসা, ঘৃণা করে।‘
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও এ দিন প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল নেত্রী । তিনি বলেন, “ভোটের তিন মাস আগে এসআইআর করার কোনও প্রয়োজন ছিল? যদি ২০২৪ সালের ভোটার তালিকা অনুযায়ী নরেন্দ্র মোদি দেশের প্রধানমন্ত্রী হন, তা হলে সেই ভোটার তালিকা বৈধ। সেই ভোটে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। তা হলে এখন প্রশ্ন তোলা হলে প্রথমে নরেন্দ্র মোদীরই পদত্যাগ করা উচিত।” ধর্মীয় রাজনীতির প্রসঙ্গেও বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি। “ওরা বলে হিন্দুদের রাজ্য করবে। আগে জিজ্ঞাসা করুন, হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে কতটা জানে।“
রাজ্যের উন্নয়ন ও ব্র্যান্ডিং নিয়েও বক্তব্য রাখেন মমতা। তাঁর দাবি, “বিশ্ববাংলা আজ একটি প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা বাস্তবে রূপ পেয়েছে।” পাশাপাশি বিষ্ণুপুরের ঐতিহ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুরের মাটি শিক্ষার মাটি, সংস্কৃতির মাটি, সঙ্গীতের ঘরানা, অন্য দিকে মন্দিরের ঘরানা। গোটা শহর জুড়ে পর্যটন ব্যবস্থাকে উন্নত করার জন্য জল, আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিষ্ণুপুর মিউজিয়াম সংস্কারের জন্য ১০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। লালবাঁধ সংস্কার করা হয়েছে। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে মার্কেটিং হাব তৈরি করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা ও গড়বেতায় সভা সেরে বিষ্ণুপুরে পৌঁছন মমতা। বিধানসভা ভোটের আগে ধারাবাহিক জনসভায় বিজেপিকে আক্রমণ করে রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলছেন তিনি।





