শনিবার বারুইপুরে নির্বাচনী (West Bengal Assembly Election)জনসভা করতে গিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) । সভা থেকে ক্ষুব্ধ মমতা বললেন,
‘‘এখনকার লোকাল পুলিশ কেন্দ্রীয় বাহিনী দেখলে মাথা নত করে দিচ্ছে, কেন করছে জানি না। ওদের ব্যাপার। এরা এখন আমাদের হাতে নেই। ওরা ভাবছে নির্বাচন কমিশনের হাতে। ঠিক আছে, তা-ই করুক। কিন্তু আর কত দিন? দুই বা তিন সপ্তাহ। তার পরে কোথায় যাবেন? আমি যদি মানুষের ভাষা বুঝে থাকি, আমরা আছি, থাকব।’’সভা থেকে কমিশনের পর্যবেক্ষককেও নিশানা করেন তিনি।
সভা থেকে নাম না করে বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত দত্তকে নিশানা করে তিনি বলেন,‘‘আর একজন অবসরপ্রাপ্ত অফিসার যা করেছেন, সিঙ্গুরের দখল করা জমির সবচেয়ে বড় হোতা। তিনি ভার্চুয়াল বৈঠক করে বলছেন, তৃণমূলকে গ্রেফতার করতে হবে। গাড়িতে গাঁজা ঢুকিয়ে দাও। আইটি রেড করো। ইডি, সিবিআই রেড করো। নির্বাচনের সময়ে গণতান্ত্রিক ভাবে লড়তে পারেন না?’’
সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘‘এসআইআরের লাইন, নোটবন্দির লাইনে দাঁড়িয়েছেন। আধার কার্ড নিতে হাজার টাকা দিয়েছেন। এ বার বিজেপি-কে বেলাইন করার খেলা। দুরন্ত ভাবে খেলতে হবে। এত ঔদ্ধত্য ভাল নয়। ওদের একটা ভোটও দেবেন না। বিজেপির টাকায় নির্দল প্রার্থী হয়ে দাঁড়ায়। ওদেরও ভোট দেবেন না। এটা অসম রাজনৈতিক লড়াই। ভোটে সম লড়াই হবে। কারণ, মা-বোনেরা আমার সহযোদ্ধা।’’
মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়েও সভা থেকে সরব হন তৃণমূল নেত্রী। কেন্দ্রকে কটাক্ষ করে বলেন,‘‘কাল প্রমাণ হয়ে গিয়েছে, এরা সংখ্যাগরিষ্ঠ আর নয়। মাইনরিটি সরকার। কাল থেকে দিল্লিতে মোদীজির পতন শুরু হয়েছে। বাংলায় হবে দ্বিতীয় পতন। বাংলা দিয়ে দিল্লি দখল হবে।’’
সবশেষে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, “নির্বাচনে যাঁরা ডিউটি করবেন, তাঁদের যেন টাকা দিয়ে কিনতে না পারে। খেয়াল রাখবেন, চা, জলের সঙ্গে কিছু যেন মিশিয়ে দিতে না পারে। তখন আপনি যোদ্ধা। বীরের মতো লড়াই করতে হবে।’’




