ফর্ম ৬ নিয়ে এই মুহূর্তে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। যা নিয়ে বুধবার সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন রাজ্যের আইনজীবী। এর পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট কিছু নির্দেশ দিয়েছে। সেই নির্দেশের প্রেক্ষিতে নানুরের সভা থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বললেন, ‘‘আজ আমি খুশি। সুপ্রিম কোর্ট ভালো রায় দিয়েছে। পদ্ম ফুলের বস্তা দিয়ে ফর্ম ৬ জমা করে বাইরে নাম ঢোকাচ্ছিল। সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) বলে দিয়েছে ওসব হবে না।’’এদিনের সভামঞ্চ থেকে মমতা সিপিএম বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ করে বলেন, ‘‘আগে যেটা সিপিএম করতো, এখন বিজেপি করে। বেছে বেছে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। যেন উকুন বাদ দিচ্ছে। বুধবার নানুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী বিধানচন্দ্র মাঝির সমর্থনের সভা করেছেন তৃণমূল নেত্রী।
এসআইআর-এ (SIR) নাম বাদ পড়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে এদিনের সভায় মমতা বলেন, ‘‘সবচেয়ে বেশি মহিলাদের নাম কাটা গিয়েছে। অনেকেই বিয়ের পর শ্বশুর বাড়ি চলে গিয়েছে। পদবি পাল্টে গেলেই নাম বাদ কেটে দিয়েছে।’’তারপরই তিনি গর্জে ওঠেন, ‘‘আমি সুপ্রিম কোর্টে ছুটে গিয়েছিলাম। আমি যত দূর জেনেছি ২২ লক্ষের নাম আমরা এখনও পর্যন্ত তুলতে পেরেছি। ১৮ লক্ষ বাদ আছে, তাঁদের প্রত্যেককে আপিল করতে হবে। ট্রাইব্যুনালে যেতে হবে। খরচ আমরা দেব।’’
পাশাপাশি বিজেপিকে নিশানা করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে মমতা বলেন, ‘‘বিহারে ভোটের আগে চুপি চুপি অ্যাকাউন্টে আট হাজার টাকা ঢোকাল। এখানেও শুনছি গরিব মানুষদের কাছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর চাইছে। খবরদার দেবেন না। যা আছে সেটাও নিয়ে নেবে। টাকা ঢোকানোর নাম করে কেটে নেবে। বিজেপি-কে একেবারে বেলাইন করে দিন। বাংলা ভাষায় কথা বললেই অনুপ্রবেশকারী? অনুপ্রেবেশ কোথাও হয়ে থাকলে তার দায় নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহের। বিপদে পড়লে পাশের দেশ আশ্রয় দেয়। আপনারা কত জনকে ঢুকিয়েছেন, আমরা জানি। আমি এ নিয়ে চিঠিও দিয়েছি।’’
গ্যাসের দাম নিয়ে বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন, ‘‘গতকালও গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। এরপর ভোট হয়ে গেলে গ্যাসও পাবেন না, উনুনে রান্না করতে হবে। বিনা পয়সায় রেশন দিচ্ছে তৃণমূল সরকার, আর প্রচার করছে বিজেপি। এদের লজ্জা করে না?’’
এদিন বীরভূমের নানুরে পাপুড়ি মাঠে জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে দাঁড়িয়ে পুরনো দিনের কথা স্মরণ করেন তৃণমূল নেত্রী। দীর্ঘ ১৭ বছর পর নানুনের মাটিতে পা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই সময় পেলে চলে আসতাম। ধানখেতে যেতাম। বীরভূম আমার নিজের মাটি। বোলপুর, শান্তিনিকেতন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মাটি।” অমর্ত্য সেন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখানে অমর্ত্য সেনের জমি রয়েছে। সেই জমিও কেড়ে নেওয়া হচ্ছিল। জানতে পেরে আমি ছুটে এসেছিলাম।”





