নির্বাচনী জনসভা করতে গিয়ে শীতলকুচির মাটিতে দাঁড়িয়ে বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে তোপ দাগলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। শীতলকুচি পঞ্চায়েত সমিতির প্লে-গ্রাউন্ডে আয়োজিত বিশাল জনসভায় সীমান্তবর্তী এলাকা শীতলকুচির সবথেকে বড় সমস্যার কথা তুলে ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করেন, “এখানে ৫০ এর বেশি পরিবার আছে যাদের জমি রয়েছে কাঁটাতারের পাশে, তারা চাষবাস করতে জমিতে যেতে ভয় পাচ্ছে। লোকজনকে ধরে নিয়ে যায়। তাদের জেলও খাটতে হয়। এই নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বা বিধানসভায় এখানকার বিদায়ী বিধায়ক একটা চিঠিও লেখেনি বা দরবারও করেনি। “
এদিনের সভার শুরুতেই ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ভয়াবহ ঘটনার কথা স্মরণ করেন অভিষেক। স্মৃতি উস্কে দিয়ে অভিষেক বলেন, “যাঁরা মানুষের ওপর গুলি চালিয়েছিল, যাঁরা বাংলার টাকা আটকে রাখে, সেই বহিরাগত জমিদারদের উচিত শিক্ষা দিতে হবে। ২১-র বদলা গণতান্ত্রিকভাবে ২৬-এ নিতে হবে।” কড়া ভাষায় বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে তিনি বলেন, “গত ২১-এর নির্বাচনে কীভাবে বিজেপি, নির্বাচন কমিশন এবং তাদের সাগরেদ কেন্দ্রীয় বাহিনী বন্দুকের নল দিয়ে মানুষের রক্ত হাতে মেখে ৪ জন নিরীহ ভোটারকে গুলি করে শীতলকুচি দখল করেছিল, সেই দৃশ্য আজও আমরা কেউ ভুলিনি।” এই ঘটনার জন্য সরাসরি অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদীকে দায়ী করে তৃণমূল সাংসদ অভিযোগ করেন, শুধুমাত্র ক্ষমতা দখলের লোভে ওই ৪ জন গরিব মানুষকে খুন করেছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশনের অফিসাররা। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, সেই মর্মান্তিক ঘটনার পরের দিনই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শীতলকুচির মাটিতে ছুটে এসেছিলেন।
বিজেপির ‘রক্তচক্ষু’ উপেক্ষা করে গত ৫ বছর ধরে শীতলকুচিতে যাঁরা লড়াই চালিয়ে গেছেন, তাঁদের কুর্নিশ জানিয়ে অভিষেক বলেন, “আমার ভাই, বোন, দাদা এবং সহযোদ্ধারা প্রবল প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলে এই শীতলকুচিতে তৃণমূল কংগ্রেসকে শক্তিশালী করেছেন।” তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “শীতলকুচির মাটি বশ্যতা বিরোধী মাটি, এই মাটি কারও কাছে মাথা নত করতে জানে না।”





