বিধানসভা নির্বাচনের আবহে মালদহের বিশৃঙ্খলা নিয়ে এবার সরাসরি কংগ্রেসে ও বিজেপি দিকে অভিযোগের আঙুল তুললেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার বৈষ্ণবনগরের নির্বাচনী জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানান, “মালদার অপ্রীতিকর ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে কংগ্রেসের চক্রান্ত, আর তার মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিজেপির (BJP) শাগরেদ বাংলায় এখন দুই দল সিপিএম (CPIM), কংগ্রেস (Congress)।” এমনকি সিপিএম, কংগ্রেস ও বিজেপিকে “গদাই- মাধাই- জগাই” বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
মালদহের ঘটনা প্রসঙ্গে এদিন মমতা বলেন, “মালদহের এই সব গন্ডগোলের পেছনে রয়েছে কংগ্রেস। এটা আমাদের দলের কাজ নয়। জাজেদের আটকে রাখার কী দরকার ছিল? যারা এই কাজ করেছে, তাদের একটাকেও যেন ছাড়া না হয়। কংগ্রেস মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। খালি ভোট এলে প্রার্থী দিয়ে প্রচার করতে চলে আসে।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই ঘটনার ফলে সিবিআই বা এনআইএ-র ধরপাকড় বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে সাধারণ ভোটারদের ওপর। তৃণমূল নেত্রীর দাবি, “অশান্তি করে আসলে বিজেপিকে সুবিধা করে দিচ্ছে কংগ্রেস। আজকে কংগ্রেস যদি শক্তিশালী হত তাহলে বিজেপি কোনদিন ক্ষমতায় আসতে পারত না।”
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে বিঁধে মমতা বলেন, “আমার হাতে এখন পুলিশ নেই। উকুন বাছার মতো অফিসারদের বদলে দেওয়া হয়েছে। আমাকে কোনও তথ্য জানানো হচ্ছে না।” একইসঙ্গে রাস্তা ও উন্নয়নের কাজ বন্ধ রাখা নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ করে তিনি এবারের নির্বাচনকে ‘বিজেপি-কংগ্রেস-গদ্দারদের শূন্য করার খেলা’ বলে অভিহিত করেন।
পাসাপাশি সভা থেকে সাধারণ ভোটারদের তিনি সতর্ক করেন, “কারও কারও অ্যাকাউন্টের খোঁজ করছে বিজেপির লোকেরা। ফোন করে ব্যাংক, পোস্ট অফিসের অ্যাকাউন্ট নম্বর চাইছে। বলছে টাকা পাঠাব। ভুলেও কাউকে দেবেন না। অ্যাকাউন্ট হাপিস করে দেবে। বুদ্ধি খরচ করুন। লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু। পশ্চিমবঙ্গ সরকার থেকে করছে বললেও দেবেন না। ওটা বিজেপি করছে। বিজেপি দুরাচারী, শয়তান, অত্যাচারী, খুনি, ব্যভিচারী, স্বৈরাচারী।”
সভা শেষে মালদহবাসীর উদ্দেশ্যে তাঁর আর্জি, “আজকে আমি মর্মাহত এই একটা ঘটনার জন্য, হঠকারী সিদ্ধান্তের জন্য। ভাগাভাগি করবেন না। আজ আপনাদের জন্য সারা বাংলার বদনাম হয়েছে। শান্তিতে থাকুন। কারোর প্ররোচনায় পা দেবেন না।”





