মালদার হবিবপুরের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) এক মঞ্চে বিতর্কে আহ্বান জানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘‘মুখোশ আমি টেনে খুলে দেব। প্রধানমন্ত্রীকে বলুন আমার মুখোমুখি হতে। হিম্মত থাকলে এক মঞ্চে আসুন। উনি আগে থেকে বক্তৃতা লিখে রাখেন। টেলি প্রম্পটার ছাড়া একটা কথাও বলতে পারেন না। বিজেপিকে বেলাইন করার জন্য আমরা এ বার ভোটের লাইনে দাঁড়াব।’’
এদিনের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কটাক্ষ করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “মালদহ শহরের লোকসভায় দুটি আসন। একটা কংগ্রেস, একটা বিজেপি জিতেছে। অনুপ্রবেশকারীদের কথা বলেন! ২০২৪ -এ আপনি তো সেই অনুপ্রবেশকারীদের ভোটেই জিতেছেন। আপনি আগে পদত্যাগ করুন।” এরপরই প্রধানমন্ত্রী আক্রমণ শানিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোর হুঙ্কার “হিম্মত থাকলে একমঞ্চে এসে আমার মুখোমুখি হন।”
ভোটের মুখে রাজ্যের ব্যাপক প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে এদিন বিজেপি ও কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা। তিনি বলেন, এত অফিসারকে কেন সরিয়েছে জানেন? যাতে ভোট লুঠ করতে পারে। যাতে ড্রাগ,মাদক, মানি লন্ডারিং করতে পারে। বর্ডার দিয়ে লোক ঢোকাচ্ছে। বিজেপি এই অন্যায় গুলো করবে বলে এত লোককে সরিয়েছে।” বিজেপিকে ‘উন্নত মানের বিষ’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। সভামঞ্চ থেকে তাঁর হুঁশিয়ারি “দালালরা সাবধান”।
মাল্ধের কালিয়াচক-মোথাবাড়ির ঘটনা নিয়েও এদিনের সভা থেকে সরব হন তৃণমূলনেত্রী। ঘটনার জন্য আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মিম-কে কটাক্ষ করেছেন মমতা। মালদহে বিচারকদের আটকে বিক্ষোভের ঘটনায় তাদেরই দায়ী করেছেন তিনি। বলেছেন, “মালদহের একটা ঘটনা বাংলার সম্মান নষ্ট করে দিয়েছে। স্থানীয় লোকেরা এর জন্য দায়ী নন। তাঁদের ক্ষোভ থাকতেই পারে। হায়দরাবাদ থেকে এসেছে বিজেপির কোকিল। তার সঙ্গে কিছু সাম্প্রদায়িক লোকজন। মালদহে তারাই এ সব করছে। আমরা হাতেনাতে ধরেছি। বিমানবন্দর থেকে সিআইডি ধরেছে। বিচারকদের কারা আটকে রেখেছিল? বহিরাগতেরা।” এমনকি ওয়েইসির দল পশ্চিমবঙ্গে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ভোট কেটে তৃণমূলের ভোটবাক্সে ভাগ বসাতে চাইছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নাম না-করে ওয়েইসির দলকে কটাক্ষ করে ফের তিনি বলেন, “ভোট কাটার খেলা চলছে। হায়দরাবাদ থেকে আসছে ভাই, সঙ্গে আছে গদ্দার ভাই।”
শাহকে নাম না করে ‘মোটাভাই’ বলে কটাক্ষ করেন মমতা। বলেন, ‘‘আগে মণিপুর সামলান মোটাভাই। সঙ্গে এজেন্সি আছে। তাই খুব মজায় আছে। ফোন করে করে লোকজনকে ভয় দেখান। কাজই ফোন করে ভয় দেখানো। আমাকেও একদিন করেছিল। ভাল করে গুঁতিয়ে দিয়েছি। লড়াই করতে হলে সামনাসামনি করো।’’
সবশেষে সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর বার্তা, “এবারের ভোট, নামকাটার বদলা, এতো মানুষের মৃত্যুর বদলা। বিজেপিকে শূন্য করে দিন, বাংলাকে পুণ্য করে দিন।”





