রথে চেপে বিজেপি যেমন পশ্চিমবঙ্গে আসছে, তেমনই উল্টোরথে চেপে বিদায় নেবে। রায়না সভা থেকে এই ভাষাতেই ফের বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের ভোটারদের হেনস্থা, বাঙালিদের অপমান এবং ভেদাভেদ সৃষ্টির অভিযোগেও বিঁধলেন পদ্মশিবিরকে। রবিবার রায়নার নির্বাচনী জনসভা থেকে বিজেপির সঙ্গে সিপিএম-কেও একই বন্ধনীতে ফেলে আক্রমণ শানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার হাজরার সভা থেকে অমিত শাহ জানান, ভোটের সময়ে ১৫ দিন তিনি পশ্চিমবঙ্গেই থাকবেন। এবার নাম না করে তা নিয়েই শাহকে নিশানা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এ প্রসঙ্গে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিষেক লেখেন, “ভোটের আগে এই ১৫ দিন যাঁরা পশ্চিমবঙ্গে কাটাচ্ছেন, ৪ মে-র পরের দিনই তাঁরা এখান থেকে উধাও হয়ে যাবেন। পরের ভোট না আসা পর্যন্ত তাঁদের আর দেখাই পাওয়া যাবে না।”
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার পর্বে সুসজ্জিত প্রচারগাড়ি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ‘পরিবর্তন যাত্রা’, সভা সমাবেশ সহ একাধিক কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি। মনে করা হচ্ছে, বিজেপির এই কর্মসূচিগুলিকেই কটাক্ষ করে অভিষেক বলেছেন, ‘রথে চেপে এসেছে এবং উল্টোরথে চেপে বিদায় নেবে।’
রবিবার পূর্ব বর্ধমানের রায়নায় জনসভা করেন অভিষেক। সেখানে তৃণমূল সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি। জানান, রায়নার বাসিন্দাদের মূলত দু’টি প্রধান দাবি রয়েছে—হিমঘর এবং দমকলকেন্দ্র। রাজ্যে তৃণমূল চতুর্থ বার সরকার গঠন করার পরে এই দু’টি দাবিই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। একই সঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি’ করার অভিযোগ তোলেন । অভিষেক বলেন, “বিজেপি নেতাদের কাছে আমার অনুরোধ, ধর্মের ভিত্তিতে লড়াই করবেন না। আপনারা যদি লড়াই করতে চান, তবে মানুষের জন্য করা কাজের ভিত্তিতে লড়াই করুন।”
বিজেপি-কে আক্রমণ শানিয়ে অভিষেক বলেন, “এটা কেবল তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের লড়াই নয় বরং মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই।”
রায়নার সভা থেকে বিজেপি এবং সিপিএম-কে দৃশ্যত একই বন্ধনীতে রেখে নিশানা করেন অভিষেক। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বিজেপি-কে বিঁধে বলেন, “এটা সেই দল, যারা এসআইআর থেকে শুরু করে অন্যান্য জনবিরোধী সিদ্ধান্ত এবং নির্দেশিকা নিয়ে এসেছে। ওদের ভোট দেওয়ার অর্থ হবে পরোক্ষভাবে সিপিএম-এর হার্মাদদের ফিরিয়ে আনা।” রাজ্যে তৃণমূল সরকারে আসার আগে বাম জমানার শেষ পর্বের কথাও উল্লেখ করেন অভিষেক। পূর্ব বর্ধমানেরই হিজলনা গ্রাম পঞ্চায়েতের কথা তুলে ধরেন তিনি। অভিষেক বলেন, “আমার মনে পড়ছে, সিপিএম-এর সেই নিপীড়ন ও অত্যাচারের কথা। সেই একই গুন্ডারা এখন শুধু তাদের জার্সি বদলে বিজেপিতে যোগ দিয়েছে এবং ওরা এখন আবার সেই একই অন্ধকার দিনগুলো ফিরিয়ে আনতে চায়।”





