রেশন দুর্নীতি মামলায় একবছরের বেশি সময় জেলে ছিলেন হাবড়ার বিদায়ী বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালু। তবে বর্তমানে জামিনে মুক্ত তিনি। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ফের বালুকেই ভরসা করেছে তৃণমূল। এবারও হাবড়া আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। মঙ্গলবার হাবড়ায় নির্বাচনী জনসভা থেকে সেই বালুকেই দরাজ সার্টিফিকেট দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বললেন, “বালুর নামে বদনাম দিয়ে বেড়াচ্ছে শুনছি। আমার সরকারে বালু যত ভালো কাজ করেছে, কেউ করতে পারেনি। ওর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হয়েছে।”
এদিন সভার শুরুতেই মমতা বলেন, ‘‘কারও কথা শুনে, কুৎসা-অপপ্রচার শুনে ভোট দেবেন না। উত্তর ২৪ পরগনার মানুষকে জিজ্ঞাসা করি, এসআইআরের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তো? এই অপমানের বদলা নেবেন কি নেবেন না? .যারা আজ সিপিএম করে তারা আজ বিজেপিও করে। কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএম, তিনটেই সেম সেম।’’এরপর হাবড়ার প্রার্থী বালুর সমর্থনে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “ওকে হিংসে করে গ্রেপ্তার করেছিল। কোনও প্রমাণ পায়নি। কেন গ্রেপ্তার করেছিল? ওই পচা সিপিএম পার্টি দেড় লক্ষ নাম রেশন কার্ডে ঢুকিয়ে দিয়েছিল। সেগুলো ফল্স নামে রেশন দিত। এই চুরি ধরেছিল বালু। তাই ভুয়ো কেসে ফাঁসিয়েছে। ডিজিটাল রেশন কার্ডও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (ওর ভাল নাম) করেছিল। এই কাজটা এত সোজা ছিল না। পাচার হত আগে রেশনের মাল। প্রত্যেকটা গাড়ি দেখা, সব বালু করেছিল। সেই ছেলেটাকে ফাঁসানো হয়েছিল।’’
এরপর সভা থেকে বাম-বিজেপিকে একযোগে নিশানা করে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ওরা কাকে ফাঁসায়নি। আমি কেন ছবি আঁকি, অভিষেক কেন ব্যবসা করে… আরে খাবে কী? ওর পরিবার নেই? চুরি করবে না ডাকাতি করবে? সৎ ভাবে ব্যবসা করলে আপনার আপত্তির কী আছে?’’ সভা থেকে হাবড়ায় সিপিএমকে নিশানা করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘ওরা জিতবে তো না। বিজেপিকে জিতিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। একটি ভোটও সিপিএমকে দেবেন না। ওদের শূন্য করেছিলাম। আজ বড় বড় কথা বলছে। ওদের শূন্যে নামিয়ে দিন।’’
প্রসঙ্গত, হাবড়া থেকে আবার জ্যোতিপ্রিয় ওরফে বালু মল্লিককেই প্রার্থী করেছে তৃণমূল। ২০১১ থেকে ’২১, টানা ১০ বছর রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন তৃণমূলের ওই প্রবীণ নেতা। ২০২১ সালের পর কিছু দিন বনমন্ত্রীর ভার সামলান। ২০২৩ সালের অক্টোবরে রেশন দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হন বালু। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয়। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে বালুকে পুরনো কেন্দ্র হাবড়া থেকেই প্রার্থী করেছে তৃণমূল। জ্যোতিপ্রিয়কে দলনেত্রীর এই দরাজ প্রশংসা ভোটযুদ্ধে তাঁকে বেশ কিছুটা এগিয়ে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহল মহল।





