Header AD

লেবাননে হামলায় ভাঙনের মুখে যুদ্ধবিরতি! পাকিস্তানের ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলল ইজরায়েল

Israel on ceassefire

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা (Middle East Crisis) বৃদ্ধি পেয়েছে। লেবাননে (Lebanon) ইজরায়েলের সামরিক হামলার ফলে কার্যত প্রশ্নের মুখে পড়েছে সাম্প্রতিক সংঘর্ষবিরতি (Ceasefire)। এই পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তানের (Pakistan) মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে সন্দেহ প্রকাশ করেছে ইজরায়েল (Israel)।

ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূত রুভেন আজার (Rubhen Azar) সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট ভাষায় জানান, পাকিস্তানকে তারা কোনওভাবেই নির্ভরযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখেন না। তাঁর মতে, পাকিস্তানকে এই ভূমিকায় বেছে নেওয়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের (USA)  নিজস্ব কৌশলগত কারণ থাকতে পারে।

আজার আরও বলেন, অতীতে হামাসের (Hamas) সঙ্গে আলোচনা বা সমঝোতার ক্ষেত্রে কাতার ও তুরস্কের মতো দেশের সঙ্গে কাজ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইজরায়েলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইরান প্রসঙ্গে আজার জানান, ইজরায়েলের লক্ষ্য ছিল ইরানের শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করা এবং সেদেশের জনগণের জন্য ভবিষ্যতে উন্নত পরিস্থিতি তৈরি করা। তাঁর দাবি, সেই লক্ষ্য আংশিকভাবে সফল হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি ইরানের সরকার কূটনৈতিক সমাধানের পথে না হাঁটে, তাহলে ইজরায়েল আবারও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না। এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর (Benjamin Netaniyahu) অবস্থানও একই বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সাময়িক সংঘর্ষবিরতি কার্যকর থাকলেও লেবাননকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স  (J D Vans) স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই সংঘর্ষবিরতি চুক্তির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। ভান্স বলেন, লেবাননে হামলা না করার কোনও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।

এদিকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি (Abbas Araghochi) যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায় আমেরিকার। তারা সংঘর্ষবিরতির পথে এগবে, নাকি ইজরায়েলের সমর্থনে যুদ্ধ পরিস্থিতি বজায় রাখবে, দুইটি একসঙ্গে সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে উঠছে এবং আগামী দিনে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।