তৃণমূল থেকে বহিস্কারের পর নিজের দল জনতা উন্নয়ন পার্টি তোইরি করেছে হিমায়ুন কবীর। মুর্শিদাবাদের ভরতপুর এবং রেজিনগর- দুই আসন থেকে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন তিনি নিজেই। রেজিনগরের নির্বাচনী জনসভা থেকে এই হুমায়ুনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। কটাক্ষ করে বললেন, বিজেপির কথায় ময়দানে সার্কাস করছে। একই সঙ্গে কংগেস- সিপিএম-মিম-জুপকে ‘বিজেপির বিটিম’ বলে একযোগে নিশানা করলেন। সভা থেকে বিজেপিকে তোপ দেগে গর্জে উঠলেন, “আমাদের দেশপ্রেমের সার্টিফিকেট বিজেপির থেকে নিতে হবে না। জয়ের পর এই মুর্শিদাবাদের মাটিতেই সব থেকে বড় জাতীয় পতাকা লাগাব।”
শনিবার রেজিনগর এবং ভরতপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী আতিউর রহমান এবং মুস্তাফিজুর রহমান সুমনের সমর্থনে জনসভা করেন তিনি। সেখান থেকেই জনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, “মুর্শিদাবাদে বিজেপির বিটিম আর সিটিম কাজ করছে। এখানে ওদের তিনটে এজেন্সি। একটা জ্ঞানেশ কুমার, একটা অধীর চৌধুরি, আর একটা হুমায়ুন কবীর।” গত কয়েকদিন আগে হুমায়ুন কবীরের যে চাঞ্চল্যকর ভিডিও প্রকাশ করেছে তৃণমূল তা নিয়েও এদিনের সভায় সরব হন অভিষেক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “হুমায়ুন দাবি করছেন ভিডিও এআই নির্মিত। তাই যদি হবে তাহলে আমার প্রশ্ন, ভিডিও প্রকাশের পর আপনার দলের রাজ্য সভাপতি খোয়ায়েব আমিন কেন পদত্যাগ করলেন। কেন বা মিমের ওয়েইসি আপনার সঙ্গে থাকলেন না?” এরপর হুমায়ুনকে একহাত নিয়ে তিনি বলেন “বিজেপির থেকে টাকা খেয়ে ওদের কথায় ময়দানে সার্কাস করছে। মসজিদের রাজনীতি করে মানুষকে বোকা বানাচ্ছে। বাঙালি ছেড়ে কথা বলবে না হুমায়ুনবাবু।”

সভা থেকে সাধারণের উদ্দেশে অভিষেকের বার্তা, “আগামী ১২ দিন কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না। এবারের লড়াই বিজেপি- কংগ্রেস-সিপিএম-মিম-ডিম-জুপ-ঝুপ-যত দুনম্বরি বিজেপির বিটিম আছে তাদের সবাইকে মুর্শিদাবাদের মাটি থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে হবে।” এরপরই অধীর চৌধুরি, নওসাদ সিদ্দিকি, হুমায়ুন কবীর, ওয়েইসির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনে তিনি বলেন আমি শাহকে যারা সিকিউরিটি দেয় তারাই এদেরও সিকিউরিটি দেয়। তিনি ভরা সভা থেকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন- অধীর-নওসাদ- হুমায়ুন-ওয়েইসিকে চ্যালেঞ্জ করছি, ক্ষমতা থাকলে সিকিউরিটি ফিরিয়ে দিন। আঁতাত না থাকলে সিকিউরিটি দেবে কেন? আমাদের তো দেয় না।”
সভা শেষে বিজেপিকে আক্রমণ করে গর্জে ওঠেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর হুঙ্কার, “আমাদের বাংলাদেশি রোহিঙ্গা বলেছেন । জেনে রাখুন, আমাদের দেশপ্রেমের সার্টিফিকেট বিজেপির নরেন্দ্র মোদি, যোগী আদিত্য নাথের থেকে নিতে হবে না। জিতে আসার পর এই মুর্শিদাবাদের মাটিতে সবচেয়ে বড় জাতীয় পতাকা লাগাব।”





