শনিবার মুর্শিদাবাদের লালবাগ সিঙ্ঘি হাই স্কুলের মাঠের জনসভা থেকে বিজেপি-কংগ্রেসকে একযোগে আক্রমণ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কংগ্রেস ভোট কাটাকাটি করে বিজেপিকে জেতালে মানুষের যে হাল খারাপ হবে সেই সতর্কবার্তাও দিলেন অভিষেক এই সভা থেকে। বিশেষ বার্তা দিলেন বহরমপুর কেন্দ্রের সিপিএম কর্মী, সমর্থকদের জন্যেও।
মুর্শিদাবাদ কংগ্রেস গড় বলেই পরিচিত। এদিন প্রথমে রোড শো করে হাত শিবিরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এরপর লালবাগের সভা থেকেও কংগ্রেসকে বিঁধলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির সঙ্গে লড়াই করে কংগ্রেস এখানে পারবেনা সেটা সবার সামনে তুলে ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোপ, “কংগ্রেস অসমে যখন ছিল তখনই এনআরসি আটকাতে পারেনি।এসআইআর নাম বাদ দেওয়া নিয়ে কংগ্রেসের কোন মুখ্যমন্ত্রী কে দেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের লড়াই করতে? বেশ কয়েকটি রাজ্যে কংগ্রেস রয়েছে। তাই এবার তৃণমূলকে ভোট দিয়ে মুর্শিদাবাদে ২২-০ করতে হবে।” অধীর চৌধুরীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “অধীর চৌধুরীকে যে পুলিশ পাহারা দেয় হুমায়ুন কবিরকে যে পুলিশ পাহারা দেয়,নওসাদ সিদ্দিকিকে যে পুলিশ পাহারা দেয়, সেই পুলিশ অমিত শাহকেও পাহারা দেয়। যদি ক্ষমতা থাকে নিজেই সমস্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা তুলে দিন। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি এরা সেটা পারবে না।” তৃণমূলের ভোট কেটে কংগ্রেস বিজেপির হাত শক্ত করতে চাইছে ব্লেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর কথায়, “অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন জাতীয় কংগ্রেস। ভোট কেটে বিজেপির হাত শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। আর একটা হুমায়ুন কবীরের পার্টি। তাঁর প্রকৃত স্বরূপ কী ভিডিওতে আপনারা দেখে নিয়েছেন। সে বলছে এক হাজার কোটি টাকা আমাকে বিজেপি দেবে, আর আমি মুসলমানদের বোকা বানিয়ে ভোট কাটবো। কেউ এদের ফাঁদে পা দেবেন না। এদের এমন শিক্ষা দিতে হবে, যেন মানুষকে বোকা বানানোর আগে এদের একশোবার ভাবতে হয়।’’অভিষেকের অভিযোগ, “সাংসদরা হেরে গেলে দিল্লিতে তাঁদের বাড়ি খালি করে দিতে হয়। এখনও পর্যন্ত অধীর চৌধুরীর বাড়ি খালি করতে বলেনি। কেন? ডিলটা কী?”
অন্যদিকে এদিনের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসকে ঠুকে সিপিএমকে কটাক্ষ করে বলেন, “এখানে সিপিএম কোন প্রার্থী দেয়নি। আমি বামপন্থীদের জিজ্ঞাসা করতে চাই, এবার ভোটটা কাকে দেবেন ? অধীর চৌধুরীকে। যখন ক্ষমতায় ছিল গুন্ডামি, দুর্নীতি, সিন্ডিকেট করে আপনাদের উপর অত্যাচার করেছিল। ২০১১ সালের পরে এখানে কোনও সিপিএম নেতা-কর্মীদের উপরে অত্যাচার হয়নি।’বাম জমানায় এই কেন্দ্রে সিপিএম কর্মীদের উপরে কংগ্রেসের অত্যাচারের বেশ কিছু উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। অভিষেকের কথায়, ‘পালাবদলের আগে বহরমপুরে শিবির শেষ করে বাড়ি ফেরার সময়ে খাগড়া চৌমাথায় খুন হয়েছিলেন সিপিএমের যুবনেতা দেবাশিস ঘোষাল। কংগ্রেস গুন্ডাদের হাতে খুন হয়েছিলেন মানব সাহা, পঞ্চানন মণ্ডল, হরিদাসমাটির গোপাল মণ্ডল, মধুপুরের তিন ছাত্র নেতা বাপ্পা, সন্তু, পিন্টু, ভরতপুরের তপন মুখোপাধ্যায়-সহ অনেকে। এদের কে খুন করেছে? ২৩ তারিখ ভোট কাকে দেবেন?’
মুর্শিদাবাদের বিজেপির প্রার্থী সম্পর্কে অভিষেকের অভিযোগ, ‘‘গৌরীশঙ্কর ঘোষ এলাকায় পাঁচ বছর সম্পূর্ণ নিখোঁজ ছিলেন। কোভিড মহামারির সময় তাঁকে এলাকায় খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিধায়কের থেকে শংসাপত্রের জন্য সাধারণ মানুষ ফোন করলে তিনি ফোন তোলেন না। ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি তাঁকে আমরা হাতেনাতে ধরেছিলাম ত্রিশ হাজার ফর্ম ৭ জমা দিয়ে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিল এই বিজেপির প্রার্থী।”
মুর্সিদাবাদে জয়ের টার্গেট বেঁধে দেন অভিষেক। ত্রিশ হাজার ভোটে দলীয় প্রার্থীকে মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে জেতানোর ডাক দেন তিনি। বলেন, ‘‘তৃণমূল জিতলে মুর্শিদাবাদের মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। অন্য কেউ জিতলে, অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন।’’




