BJP-কে বাদ দিলে বাংলায় একমাত্র বিরোধী আসন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় (Bhangar)। এবার সেই কেন্দ্র নিজেদের দখলে আনতে মরিয়া শাসক দল। স্বাভাবিকভাবে এই এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস তাদের প্রচার আরও জোরদার করেছে। শনিবার ভাঙড়ে এক জনসভা থেকে এই কেন্দ্রের TMC প্রার্থী শওকত মোল্লার (Shaokat Mollah) সমর্থনে জনসভা করলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শওকতকে খুনের আশঙ্কা প্রকাশ করে সেখান থেকেই বিজেপিকে আক্রমণ করে মমতা বলেন, ‘শওকতের সিকিউরিটি তুলে নিয়ে ওর ওপর হামলা করার পরিকল্পনা করছে বিজেপি। এটা হলে ছেড়ে দেব না। আমার সিকিউরিটির দরকার নেই। আমি গুন্ডাদের ভয় পাই না। জন্মেছি যখন মৃত্যু হবেই। আমার সঙ্গে লড়ার হিম্মত নেই, শওকতদের সঙ্গে লড়াই করে মরছে। প্রয়োজনে আমার সিকিউরিটি শওকতকে দিয়ে দেব।‘
ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়ে মমতা বলেন, শওকত মোল্লাকে জয়ী করলে ভাঙড়ের উন্নয়নে মানুষের চাহিদা অনুযায়ী সব কাজ করা হবে। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, নির্দল প্রার্থী বা বিজেপির সঙ্গে যুক্ত কোনও দলকে ভোট না দেওয়ার জন্য। মমতার কথায়, ‘ ভাঙড়ে উন্নয়ন ছিল না। ১১০০ একর জমিতে লেদার হাব তৈরি করেছি। ৫ লক্ষ কর্মসংস্থান হয়েছে, আগামী দিনে ২ লক্ষ কর্মসংস্থান হবে। শওকতকে ভোট দিন, ভাঙড়ে যা চাইবেন তাই করে দেব।‘ এরপরেই তৃণমূল সুপ্রিমোর সতর্কবার্তা , “কোনও সাম্প্রদায়িক দলের কথায় ভোট দেবেন না। গদ্দারদের এই মাটিতেই কবর দিন।“
শওকত মোল্লা আগে ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। এবারের নির্বাচনে তৃণমূল তাঁকে ভাঙড়ে প্রার্থী করেছে, যেখানে আইএসএফের শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। দল মনে করছে, সংগঠক হিসেবে শওকতের দক্ষতা ভাঙড় পুনর্দখলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। সেই আশা-ভরসার ছবিই ফুটে উঠল এদিন মমতার কথায়। তিনি বলেন, “আমি যদি বা হাত হই, তাহলে শওকত আমার ডান হাত। ওর কথাতেই এখানে ৮টা থানা করে দিয়েছি। হাসপাতাল করতেও টেন্ডার দেওয়া হয়েছিল, করেনি। ইসলামিয়া হাসপাতাল এবার সেটা করবে।“
পাশাপাশি এই সভা থেকেই মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়েও কেন্দ্র সরকারকে একহাত নেন তৃণমূল নেত্রী। এই বিলের আড়ালে বাংলা ও উত্তর প্রদেশ ভাগ করার অভিসন্ধি রয়েছে কেন্দ্রের বলেও সুর চড়ান তিনি। মমতা বলেন, ‘ মহিলা সংরক্ষণ বিলের আসল উদ্দেশ্য বাংলা, উত্তর প্রদেশকে টুকরো টুকরো করা। সামনে ছিল মহিলা বিল, পিছনে ছিল বদ উদ্দেশ্য। মহিলা বিল আলাদা। ওটার মধ্যে ঢুকিয়েছিল ডিলিমিটেশন। আপনি কেন মহিলা বিলের সঙ্গে ডিলিমিটেশন ঢুকিয়েছেন? উদ্দেশ্য ছিল, ডিলিমিটেশন করে দেশভাগ, বাংলা ভাগ করা। তার পরে এনআরসি করে আপনাদের সকলকে ডিটেনশন শিবিরে পাঠানো হত। চক্রান্ত করা হতও। ধরতে পেরে আমরা সকলে জোট বেঁধে ধরাশায়ী করেছি।“
আগামী ২৯ এপ্রিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। ভাঙড়ে তৃণমূলের ভাগ্য কী দাঁড়ায়, তার চূড়ান্ত উত্তর মিলবে ৪ মে ভোটগণনার দিন।





