যত ভোটের দিন এগিয়ে আসছে, নির্বাচন কমিশনের মরিয়া ভাব ফুটে উঠছে। তারা নখ, দাঁত বের করে আক্রমণ করছে। বুধবার ফের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এভাবেই তোপ দাগল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। এদিন তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করেন রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharjee) ও বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। চন্দ্রিমার অভিযোগ, ‘‘যত দিন যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন দাঁত, নখ বের করছে। তাঁদের অবজার্ভাররা চূড়ান্ত পক্ষপাতদুষ্ট। বিজেপির হয়ে দলদাসের মতো কেউ কেউ আচরণ করছেন। যাঁরা প্রতিবাদ করছেন তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, অপমান করা হচ্ছে। রাস্তায় সেনা, সাজোয়া গাড়ি নামিয়ে দিয়েছে। ট্যাঙ্ক নামানো, আকাশে যুদ্ধবিমান ওড়ানো বাকি।’’
অন্যদিকে কমিশনকে খোঁচা দিয়ে কুণাল বলেন, ‘‘ভোটের আগে একটু ট্যাঙ্কটা দেখিয়ে দিন। যুদ্ধ বিমানটাও দেখিয়ে দিন। তাহলে আমাদের হারানোর আনন্দ বেশি হবে। বাংলার আনন্দটা বেশি হবে।’’ এছাড়াও তৃণমূলের অভিযোগ, ‘‘প্রথমে ভোটারদের ভোটের অধিকার কেটে বাদ দিয়েছে। মহল তৈরি করছে। যাঁদের পাঠাচ্ছে, বিজেপি কর্মীদের বলে দিচ্ছে বিজেপি প্রার্থী, বিজেপি এজেন্টদের সঙ্গে গোপনে মিটিং করুন। কী কী করতে হবে বিজেপিকে বলে দেওয়া হচ্ছে, এত কিছু করেও তো ত্রিশ থেকে চল্লিশে তোলার চেষ্টা। বিজেপি গোহারা হারছে। আড়াইশোর বেশি সিট নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় ফিরছেন।’’
পাশাপাশি একটি হোয়াটসাআপ চ্যাটের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন কুণাল। তিনি বলেন, “ আলিপুরের এক সরকারি মেসে ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ অবজারভারের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তিনি সাগরিকা হোটেলের ২০৮ নম্বর ঘরে থাকছেন। সেখানে মগরাহাট কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী গৌর ঘোষ, ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দীপক হালদার ও তাঁদের এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।“ তৃণমূলের আশঙ্কা, দলের দক্ষ নেতাদের হেনস্তা, আটক ও গ্রেপ্তার করতে যৌথ পরিকল্পনা করছে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন। পুলিশ পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেছেন BJP প্রার্থীরা। ভোটের আগে তৃণমূলের গুচ্ছ গুচ্ছ দক্ষ নেতার নাম পর্যবেক্ষককে দিচ্ছেন বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে পর্যবেক্ষকের সঙ্গে বৈঠকে, এমনই অভিযোগ করছে তৃণমূল। সোমবার রাতের অন্ধকারে এই বৈঠক হয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে এই নিয়ে ইতিমধ্যেই অভিযোগ জানিয়েছেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন।
অমিত শাহের ‘এই দিদি’ মন্তব্য নিয়ে এদিন কটাক্ষ করেন কুণাল। তিনি বলেন, ‘‘যিনি নিজে একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে সম্মান করতে পারেন না তিনি আবার নারী সম্মান নিয়ে বক্তব্য রাখেন? মহিলাদের টাকা দেওয়ার কথা বলেন? আগে ক্ষমতায় আসুন তবে তো দেবেন। দিল্লিতে দিয়েছেন? বিহারে তো টাকা ফেরত চাইলেন? মা বোনেদের অনুরোধ করবো ওদের ফাঁদে পা দেবেন না। যেটুকু আছে সেটুকুও নিয়ে নেবে।”




