“কাল রাত থেকে কোলাঘাটে কেউ যেতে পারছে না। কাল থেকে বাবু, গদ্দার বাবু, পিরিতের বাবু, দোসর কোলাঘাট থেকে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে যাতে কেউ যেতে না-পারে। আবার পশ্চিম মেদিনীপুরে রেল ব্লক করে দিয়েছে। রাস্তা ব্লক করে দিয়েছে। ভেবেছে দু’দিনের জমিদারি করবে। তবে আগামী দিনে জমিদারি করতে পারবে না। সকলে দল বেঁধে ভোট দিতে যাবেন।’’আমডাঙার সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। পাশাপাশি এদিনের সভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ” রেল, রাস্তা, বাইক সব বন্ধ করে দিয়েছে। এ আবার কী! বাইক চলবে না। রেল বন্ধ। এগুলো ইলেকশন কমিশন করছে। যারা বাইরে থেকে আসবে, সেই ভোটাররা কীভাবে আসবে?”
সভা থেকে প্রশাসনের প্রতি তাঁর বার্তা, ” নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করুন। প্রশাসন এখন আমার হাতে নেই। তাই কোনও ঘটনা ঘটলে বাংলার প্রশাসন জেনে রাখুন দায় আপনাকে নিতে হবে।” তাঁর অভিযোগ, ভিন্রাজ্যে কাজ করা মানুষরা ভোটের জন্য ফিরছেন রাজ্যে। তাঁদের গীতা-কোরান ছুঁইয়ে বলে নেওয়া হচ্ছে বিজেপিকে ভোট দিতে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বিজেপিকে ‘সরাসরি’ লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন।
এরপরই বিজেপিকে নিশানা করে তিনি অভিযোগ করেন, “বাংলার ভোটে বিজেপি রাফাল, যুদ্ধবিমান ছাড়া বাকি সব নামিয়েছে। বিএসএফ, সিআরপিএফ- সব। কেন গুলি চালাবে? মানুষকে হত্যা করবে? ভোট তো গণতন্ত্রের উৎসব। ” সাধারণ মানুষকেও সভা থেকে সতর্ক করে দেন তিনি। বলেন, “মিলিটারি, পুলিশ যাতে ছাপ্পা দিতে না পারে সেদিকে নজর রাখবেন। রাজস্থান, বিহার থেকে ট্রেনে করে এসে ভোট দেবে? ফলস ভোট দিতে আসলে এ বার আটকে রাখবেন। মায়েদের দায়িত্ব দিলাম। পালাতে দেবেন না, এরা পালানোর চেষ্টা করবে। কোনও ঘটনা ঘটলে, পুলিশ যদি এফআইআর নিতে না চায়, তাহলে অনলাইনে অভিযোগ করবেন। পোস্ট অফিসে গিয়ে অভিযোগ করবেন। নাহলে হাতে গিয়ে জমা দেবেন। কিন্তু ছাড়বেন না।”
সভা থেকে কবি শ্রীজাতর বিরুদ্ধে কমিশনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি বলেন, ‘‘সকাল থেকে পাগল হয়ে গেছি ফোনে-মেসেজে। শ্রীজাতকে নাকি ফোন করেছে কেউ, ‘আপনার বাড়িতে পুলিশ যাচ্ছে। আপনাকে গ্রেপ্তার করা হবে। আমি সঙ্গে সঙ্গে তাকে ফোন করলাম।”
প্রসঙ্গত, আমডাঙার তৃণমূল প্রার্থী কাশেম সিদ্দিকীর সমর্থনে উলুডাঙার স্কুলমাঠে এদিন সভা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।




