“আকাশে-বাতাসে সর্বত্রই আমি রয়েছি. পালাবে কোথায়? ” রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তিতে জনসভা থেকে ফের নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে (Amit Shah)-কে এই ভাবেই কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলায় পাঁচজন পুলিশ অফিসার বদলির ঘটনাকে সামনে রেখে তিনি কমিশন ও বিজেপির মধ্যে ‘গোপন আঁতাঁত’-এর অভিযোগ তোলেন। শুধু তাই নয়, প্রথম দফার ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস আসন জয়ের হিসেবে একশো পেরিয়েছে। দ্বিতীয় দফায় কফিনের শেষ পেরেক দক্ষিণ ২৪ পরগনাই গণতান্ত্রিকভাবে মারবে। এদিন জোর গলায় সেই বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বলেন, ডায়মন্ড হারবার তাঁর সাংসদীয় এলাকা হওয়ায় তাঁকে চাপে ফেলতেই এই বদলি করা হয়েছে। তিনি সরাসরি নির্বাচন কমিশনের আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমার এবং অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন,“ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পাঁচজন পুলিশ অফিসারকে পরিবর্তন করে অভিষেক ব্যানার্জিকে জব্দ করবে ভাবছে। আমি জ্ঞানেশ কুমার আর অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ করছি, চার তারিখ দেখা হবে।”
অভিষেকের দাবি, পুলিশ পর্যবেক্ষকের সঙ্গে গোপন বৈঠকের বিষয় তিনি ফাঁস করে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “ভেবেছিল, পুলিশ পর্যবেক্ষকের সঙ্গে ডায়মন্ড হারবারের সাগরিকা হোটেলের ঘরে গোপন বৈঠক করলে কেউ ধরতে পারবে না। আকাশে-বাতাসে সর্বত্রই আমি রয়েছি। পালাবে কোথায়? ফাঁস করে দিয়েছি। চোর চুরি করেছে। আর চুরি ধরেছে বলে পাঁচজন পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “পাঁচজন অফিসারকে চেঞ্জ করে অভিষেক ব্যানার্জিকে জব্দ করবে ভেবেছে। মেঘনাদের মতো মেঘের আড়াল থেকে যুদ্ধ না করে যারা ভাবছেন ইডি, সিবিআই, নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে তৃণমূলকে জব্দ করবেন, তাঁদের ৪ তারিখ বোঝাব কত ধানে কত চাল।”
রবিবার উস্তির স্কুল মাঠে মগরাহাট (পশ্চিম) কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শামীম আহমেদ ও মগরাহাট (পূর্ব) কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শর্মিষ্ঠা পুরকাইতের সমর্থনে সভা করেন অভিষেক। প্রথম দফার ভোটে তৃণমূল ‘সেঞ্চুরি’ পার করেছে বলেও এদিন দাবি করেন তিনি। দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণ ২৪ পরগনাই ‘শেষ পেরেক’ মারবে বলেও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে তৃণমূলকে চাপে রাখার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “মেঘনাদের মতো আড়াল থেকে নয়, সামনে এসে লড়াই হোক।” নিজের পরিবারকে আক্রমণের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক জানান, “আমাকে কত আঘাত করার চেষ্টা করেছে। আমার মা, বাবা, স্ত্রী, পুত্র-কন্যাকেও ছাড়েনি। কিন্তু বিজেপির গদ্দারদের কাছে মাথানত করিনি।” পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “চ্যালেঞ্জ করছি, ঘাড় ধরে ওই পুলিশ পর্যবেক্ষক পুরুষোত্তম দাস এবং তাঁর পিতৃদেব জ্ঞানেশ কুমারকে সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে গিয়ে যদি ব্যবস্থা না করতে পারি, তবে আমার নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নয়।”
এদিন সভা থেকে আইএসএফ-কে বিজেপির ‘বি-টিম’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি এবং নওসাদ সিদ্দিকী (Naushad Siddique)-র কাছে বিজেপির সঙ্গে সম্ভাব্য ‘ডিল’-এর ব্যাখ্যাও চান তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারন সম্পাদক।





