“রাতের অন্ধকারে ওড়িশা থেকে কালো গাড়িতে ৩০০ কোটি টাকা এসেছে ভবানীপুরে! ভোটের আগে বান্ডিল বান্ডিল টাকা দিয়ে ভোট কিনতে চায় বিজেপি!”ভোটের আগে ভবানীপুরে নিজের কেন্দ্রে শেষ রবিবারের ম্যারাথন প্রচারে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা ভবানীপুরের প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata banerjee)। এদিন সন্ধ্যায় যদুবাবুর বাজার সংলগ্ন নির্বাচনী সভা থেকে তাঁর বক্তব্য, “কাল ৩০০ কোটি টাকা নিয়ে এসেছে ওড়িশা থেকে! একটা কালো স্করপিও গাড়িতে টাকা ঢুকেছে, পুলিশও আটকায়নি। বিভিন্ন বস্তিতে যাবে সেই টাকা। এক-এক জায়গায় ৫ হাজার টাকা করে বিলি করেছে! আমার কাছে খবর এসে গিয়েছে। টাকা তো নিয়ে নিয়েছে, কিন্তু ভোট দেবে না! যে নিয়েছে, সেই আমায় বলে দিয়েছে!”
সভা থেকে দলীয় কর্মীদের জন্য নেত্রীর নির্দেশ, “আপনারা এলাকায় লক্ষ্য রাখুন। ফাঁকা বাড়ি, ছোট-বড় হোটেল, লজ, ধর্মশালা আছে যত, সেখানে যেন ২৭ তারিখ প্রচার শেষ হয়ে যাওয়ার পর আর কোনও বহিরাগত না থাকে! কোনও বাইরের লোক যেন এলাকায় না থাকতে পারে!” এদিন সন্ধ্যায় পদ্মপুকুর রোড ও গঙ্গাপ্রসাদ মুখার্জি রোডে সংযোগস্থলে, যদুবাবুর বাজারে জনসভা করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হার নিশ্চিত জেনে ভয় পেয়ে গদ্দারের দল যেভাবে ভবানীপুর তথা কলকাতায় আগ্নেয়াস্ত্র কিংবা টাকার পাহাড় ঢোকাচ্ছে, তার কড়া নিন্দা করেন নেত্রী। তিনি বলেন, “১৯টা রাজ্য থেকে সকলে চলে এসেছে। মানে, চুনোপুটি থেকে রাঘব বোয়াল। শুধু একা আসেনি, সঙ্গে দু’লক্ষ পুলিশ নিয়ে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গের আকাশে ১০০টা প্লেন ঘুরছে। ২০০টা হেলিকপ্টার ঘুরছে।” এর বিরুদ্ধে তীব্র ধিক্কার জানিয়ে তিনি বলেন, “বন্দুক পাঠিয়ে দিয়েছে। গুন্ডা পাঠিয়ে দিয়েছে। কোথাও কোথাও বন্দুক নিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। আমার অ্যাপয়েন্ট করা লোকগুলোকে এসআইআরের নাম করে সরিয়েছে। তারপর বর্ডার দিয়ে বন্দুক ঢুকিয়েছে। ড্রাগ ঢুকিয়েছে। তারপরে টাকা ঢুকিয়েছে। পুরো ওড়িশার বর্ডার দিয়ে ঢুকিয়েছে। বিহার বর্ডার ব্যবহার করেছে। আর যে পুলিশকে দিয়ে আমি নাকা চেকিং করাতাম, সেসব আর কিচ্ছু হয় না। বিজেপি কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঢুকে যাচ্ছে আর বলছে আমরা চোর! ওঁরা ডাকাতের সর্দার! অত্যাচারী!” এরপরই তিনি বলেন, “কাল দেখলেন না, একটা মিটিং করলাম না। তাতে আমার কিছু যায় আসে না। ও যে আমার মাইকে মাইক লাগিয়ে দিয়েছিল, তাতে ওদের ভোটটা আরও গেল। নিজেদের ক্ষতি নিজেরা করল। কিছু জায়গায় প্ল্যান করে অশান্তির চেষ্টা করবে।”
বিশাল জনসভায় জনতার উদ্দেশে জয়ের বিষয়ে প্রত্যয়ী মমতার (Mamata banerjee) সতর্কাবার্তা, “প্রথম দফাতেই সেঞ্চুরি হয়ে গিয়েছে। এবার ডাবল সেঞ্চুরি করতে হবে। যাতে ভাল করে পর্যুদস্ত করা যায়। যাতে মেম্বার কিনে নিয়ে আর টাকা দিয়ে, অন্যভাবে খেলে গভর্নমেন্ট ভেঙে দিতে না পারে! পাঁচ বছরের স্থায়ী গভর্নমেন্ট চাই!”




