Header AD

গোঘাটে মিতালি বাগের গাড়িতে হামলা, শরীরে ঢুকল কাঁচ! অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংসদ

Attack on Mitali Bag

রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে (ElectioninBengal2026) হুগলির গোঘাটে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠল। সোমবার সকালে আরামবাগের সাংসদ মিতালি বাগের (Attack on Mitali Bag) গাড়িতে হামলার অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Avishek Banerjee) সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় আহত হন তৃণমূলের এই সাংসদ এবং তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মিতালির অভিযোগ, মাঝরাস্তায় তাঁর গাড়ি আটকে লাঠি, বড় পাথর এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা গাড়ির কাচ ভেঙে দেয়, যার ফলে কাচের টুকরোয় তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত লাগে। তিনি দাবি করেন, কোনওরকমে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন। এই ঘটনার জন্য তিনি বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীদের দায়ী করেছেন।

ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে লাইভে এসে মিতালি বলেন, ভোটের আগেই বিরোধী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করার চেষ্টা চলছে। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়ে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং এই ঘটনার দায় কমিশনকেও নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন। তৃণমূল সাংসদ প্রায় কাঁদো কাঁদো স্বরে বলেন, ‘‘দেখুন কী ভাবে বিজেপির দুষ্কৃতীরা গাড়ি ভাঙচুর করেছেন। এখনও ভোট শুরু হয়নি। দেখুন এক জন মহিলার কী ভাবে কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে।’’

অন্যদিকে, বিজেপি (Bharatiya Janata Party) এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। বিজেপির দাবি, তাদের প্রার্থীর সমর্থনে প্রচার চলাকালীন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই প্রথম হামলা চালায়। তাদের একাধিক কর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই মিতালি বাগ হামলার নাটক করছেন।  আরামবাগের প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি তথা পুরশুড়ার বিজেপি প্রার্থী বিমান ঘোষ দাবি করেছেন, ‘‘প্রার্থী প্রশান্ত দিগারের সমর্থনে এখানে প্রচার চলছিল। সেই সময় গোঘাটের তৃণমূল নেতা সঞ্জয় খানের নেতৃত্বে কিছু দুষ্কৃতী লাঠি, ইট, রড, বন্দুক নিয়ে আমাদের কর্মীদের উপর হামলা চালায়। হাসপাতালে ২০ জন ভর্তি। মোট ৫০ জন আহত। বিজেপির প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।’’

এই ঘটনার জেরে প্রশাসনও সক্রিয় হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দ্রুত এফআইআর দায়ের করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটের আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরামবাগ-গোঘাট অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।