রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটের(2nd phase election in Bengal 2026) আগের দিন পূর্ব বর্ধমানের ভাতার বিধানসভা কেন্দ্রে একটি ভাইরাল অডিওকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল প্রার্থী শান্তনু কোঁয়ার সমাজমাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপ পোস্ট করার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। প্রায় চার মিনিটের ওই অডিওতে বিজেপির এক নেত্রী এবং দলের এক যুবনেতার কথোপকথন শোনা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। (ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি আজ বাংলা ডিজিটাল) সেখানে ওই নেত্রী অভিযোগ করেন, বিজেপি প্রার্থী সৌমেন কার্ফার ঘনিষ্ঠ দলেরই কয়েকজন কর্মী তাঁকে এবং তাঁর নাবালিকা মেয়েকে নিয়ে অশালীন ভাষায় হুমকি দিয়েছেন। ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, দলের সম্মানের কথা ভেবে এতদিন পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাননি, তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে আইনি পদক্ষেপের কথাও ভাবছেন।
এই অডিও প্রকাশ করে তৃণমূল প্রার্থী শান্তনু কোঁয়ার বিজেপির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, যদি একটি রাজনৈতিক দলের মহিলা নেত্রীই দলের মধ্যে নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ মহিলাদের প্রতি সেই দলের মনোভাব সহজেই অনুমেয়।
অন্যদিকে, বিজেপি নেত্রী শুচিস্মিতা হাটি স্বীকার করেছেন যে অডিওতে শোনা কথোপকথন তাঁরই। তবে তাঁর অভিযোগ, দলের এক কর্মীর সঙ্গে ব্যক্তিগত ও অভ্যন্তরীণ আলোচনার রেকর্ডিং বেআইনিভাবে বাইরে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ঘটনার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট নেতাকেই দায়ী করেছেন এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
পাল্টা বিজেপি শিবিরের দাবি, ভাইরাল হওয়া অডিও এবং তা ঘিরে প্রচার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। বিজেপি প্রার্থী সৌমেন কার্ফার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে, যার লক্ষ্য ভোটের আগে জনমনে প্রভাব ফেলা। শান্তনুর পোষ্ট করার ঘণ্টা তিনেক পর বিজেপি প্রার্থী সৌমেন কার্ফার প্রোফাইল থেকে শুচিস্মিতা হাটির একটি ভিডিও বক্তব্য পোস্ট করা হয়েছে। তাতে সৌমেন লিখেছেন, “এআইএডিট আর তৃণমূল ও আইপ্যাকের ষড়যন্ত্রের পর্দা ফাঁস করলেন জেলার সহ-সভাপতি মাননীয় শুচিষ্মিতা হাটি। এই ষড়যন্ত্র প্রমাণ করছে ভাতারে বিজেপির জয় নিশ্চিত,হারের আতঙ্কে তৃণমূল প্রার্থী শান্তনু কোঁয়ার নাটক শুরু করেছে।”
ভোটের মুখে এই অডিও-কাণ্ড ঘিরে ভাতারের রাজনৈতিক আবহ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই রাজনৈতিক শিবিরের চাপানউতোর নতুন মাত্রা পেয়েছে।





