বঙ্গে শেষ দফার ভোটের (West Bengal Assembly Election) আগে উত্তপ্ত বাংলা! হুমকি, পাল্টা হুমকি ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পুলিশ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পেয়েই কড়া বার্তা দিয়েছেন কমিশন নিযুক্ত অফিসার অজয় পাল শর্মা। তাঁর ভাষা ও আচরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে, কারণ তিনি শুধু সাধারণ মানুষ নয়, প্রার্থীদের দিকেও কঠোর মন্তব্য ছুঁড়ে দিয়েছেন।এই পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ফলতায় তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির কাছে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে কঠিন ভাষায় সতর্ক করছেন। তাঁর এই ভিডিও শেয়ার করে তাঁকে প্রশংসায় ভরিয়েছেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। এবার তাঁর পোস্টে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমোকে গুলি করার হুমকি দিয়েছেন। তাঁর এই হুমকির প্রতিবাদে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে রাজ্যের শাসক দল। বাংলার মানুষ জবাব দেবে বলে দাবি করেছে তৃণমূল।

উল্লেখ্য অজয় পাল শর্মার ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, কেউ গোলমাল করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পরে অনুশোচনা করেও লাভ হবে না। এই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য, এবং তা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়। ওই পোস্টে মন্তব্য করতে গিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় মুখপাত্র অজয় অলোক এমন মন্তব্য করেন, যা ঘিরে আরও বিতর্ক দানা বাঁধে। তাঁর বক্তব্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে হুমকির ইঙ্গিত রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিজেপির অন্যতম সর্বভারতীয় মুখপাত্র অজয় অলোক লেখেন, “লাথি খাওয়া লোকজন মুখের কথা শোনে না। নির্বাচনের ফলাফল বেরনো পর্যন্ত এরা না পালিয়ে যায়। হুমকি দিলে তো গুলি খেতে হবে দিদি।” এটুকু লিখে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) ট্যাগ করেছেন। আর তাতেই স্পষ্ট হুঁশিয়ারি। এই পোস্টের স্ক্রিনশট নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব পালটা জবাব দিল।

এর পাল্টা জবাবে তৃণমূল কংগ্রেস তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। তাদের দাবি, বাংলার তিনবারের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়। একইসঙ্গে তারা অভিযোগ তোলে, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের ‘গুলি মারো’ বা ‘ঠোক দো’ ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বাংলায় ঢোকানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। দলের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখা হয়েছে, ‘বাংলার তিনবারের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে খুনের হুমকি! ইউপি-বিহারের ‘গুলি মারো’ আর ‘ঠোক দো’ সংস্কৃতি এবার বাংলায় আমদানি করতে চাইছে বিজেপি। নির্বাচন কমিশন (Election Commission Of India)চুপ কেন? জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) চোখের উপর থেকে ঠুলি আদৌ সরবে? বাংলার মানুষ ইভিএমে এর জবাব দেবে।’





