Header AD

এক্সিট পোল বনাম বাস্তবতা! আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল বলছে ২০০ পেরবেই

cm uluberia

রাজ্যের বিধানসভা ভোটের বুথ ফেরত সমীক্ষায় একাধিক সংস্থা ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-কে এগিয়ে রাখার ইঙ্গিত দিলেও শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (তৃণমূল) সেই পূর্বাভাস মানতে নারাজ। দলীয় সূত্রে স্পষ্ট বার্তা—এক্সিট পোল যাই বলুক, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বে তৃণমূল চতুর্থবারের মতো রাজ্যে সরকার গড়তে চলেছে, এ বিষয়ে তাদের মধ্যে কোনও সংশয় নেই।

ইতিহাস তৃণমূলের এই আত্মবিশ্বাসকে আরও জোরদার করছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে অধিকাংশ এক্সিট পোল বিজেপির জয় দেখালেও বাস্তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই তৃণমূল বিপুল আসন পেয়ে ক্ষমতায় ফেরে। একইভাবে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনেও বহু সমীক্ষা এনডিএ-র ৪০০ আসন পার হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে নরেন্দ্র মোদি-র নেতৃত্বাধীন জোট সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি। এই অভিজ্ঞতা থেকেই তৃণমূল মনে করছে, এবারও এক্সিট পোলের সঙ্গে বাস্তবের ফারাক দেখা যাবে।দলের একাংশের মতে, শুধু আগের শক্তি ধরে রাখা নয়, বিজেপির জেতা আসনেও প্রভাব ফেলতে পারে তৃণমূল।

দলের অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষের বক্তব্য, এক্সিট পোলের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির কোনও মিল নেই—আগের বারগুলিতেও সেই প্রমাণ মিলেছে।তাঁর কথায়, “এক্সিট পোল নিয়ে অহেতুক মাতামাতির কোনও কারণ নেই। এই এক্সিট পোল ২০২১ সালে বিজেপিকে জিতিয়ে দিয়েছিল। ২০২৩ পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপিকে একাধিক জেলা পরিষদ জিতিয়ে দিয়েছিল। ২০২৪-এও প্রচুর আসন পাইয়ে দিয়েছিল। এই এক্সিট পোলের সঙ্গে গ্রাউন্ড রিয়েলিটির কোনও সম্পর্ক নেই।”

উল্লেখ্য, তৃণমূলের আত্মবিশ্বাসের পেছনে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। প্রথমত, তারা মনে করছে এবারের উচ্চ ভোটের হার মূলত SIR বিরোধিতার ফল। ভোটারদের মধ্যে একটি ভয় কাজ করেছে—ভোট না দিলে ভবিষ্যতে সমস্যা হতে পারে। সেই কারণেই বিপুল মানুষ ভোট দিয়েছেন এবং এই ভোটের সিংহভাগ তৃণমূলের পক্ষে যাবে বলে ধারণা।

দ্বিতীয়ত, তৃণমূল ভরসা রাখছে তথাকথিত “এম ফ্যাক্টর”-এর উপর—মহিলা, মুসলিম এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে।
মহিলা ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি শাসকদলকে আশাবাদী করেছে যে এই ভোটের বড় অংশ তাদের ঝুলিতেই যাবে।
সংখ্যালঘু ভোট নিয়েও তৃণমূল আত্মবিশ্বাসী—যদিও কিছুটা ভাঙন বাম-কংগ্রেস বা অন্য দল আনতে পারে, তবুও সামগ্রিকভাবে মুসলিম ভোটাররা বিজেপির বিরোধিতায় তৃণমূলকেই সমর্থন করবেন বলে ধারণা। বিশেষ করে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) প্রসঙ্গ সংখ্যালঘুদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সবশেষে, তৃণমূলের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই। দলের মতে, বিজেপির কাছে এখনও এমন কোনও গ্রহণযোগ্য মুখ নেই যিনি তাঁর সমকক্ষ হতে পারেন। ফলে “বাংলা ও বাঙালির রক্ষাকর্তা” হিসেবে মমতার প্রতি মানুষের আস্থা এখনও অটুট।

এছাড়াও পরিযায়ী শ্রমিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে তৃণমূল। বহু শ্রমিক ভিনরাজ্য থেকে ফিরে এসেছেন শুধু ভোট দেওয়ার জন্য—যা সাধারণত দেখা যায় না। দলের মতে, SIR-জনিত আশঙ্কা এবং ভিনরাজ্যে শ্রমিকদের উপর বাড়তি চাপ—এই দুই কারণেই তাদের ভোট তৃণমূলের দিকেই যাবে।

সব মিলিয়ে, এক্সিট পোলের ভবিষ্যদ্বাণীকে তুচ্ছ করে তৃণমূলের দাবি—মাঠের বাস্তবতা তাদের পক্ষেই রয়েছে।