Header AD

স্ট্রংরুম ঘিরে উত্তেজনা, তৃণমূল-বিজেপির বিক্ষোভে সরগরম কলকাতার দুই গণনাকেন্দ্র! রাত জেগে পাহারার নির্দেশ মমতার

strong room chaos

ভোটগ্রহণ (Election in Bengal) শেষ হতেই এবার স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা ও ভোট-পরবর্তী প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার দুটি গণনাকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে TMC ও BJPর মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনাস্থল দুটি হল ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র এবং দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল।

ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে স্ট্রংরুমের ভিতরে ‘সন্দেহজনক কার্যকলাপ’-এর অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে বসেন তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) ও শশী পাঁজা (Shashi Panja)। তাঁদের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজনকে ব্যালটপত্র নিয়ে কাজ করতে দেখা গিয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও নির্বাচন কমিশন (ECI) এই অভিযোগ খারিজ করে জানায়, পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত পৃথকীকরণের কাজ নিয়ম মেনেই চলছিল এবং এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলিকে আগেই ই-মেলের মাধ্যমে জানানো হয়েছিল।

অন্যদিকে, দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে স্ট্রংরুম পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। পরিদর্শনের পর মমতা দলীয় প্রার্থীদের স্ট্রংরুমে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, সারাক্ষণ পাহারার ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং প্রয়োজনীয় খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে তৃণমূলের বিক্ষোভ চলাকালীন সেখানে পৌঁছন বিজেপি প্রার্থী সন্তোষ পাঠক ও তাপস রায়। স্ট্রংরুমের সামনে রাজনৈতিক জমায়েত নিয়ে আপত্তি জানালে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং তৃণমূল তাদের অবস্থান তুলে নেয়।

বিক্ষোভ প্রত্যাহারের আগে তৃণমূল চার দফা দাবি জানায়। এর মধ্যে ছিল পোস্টাল ব্যালট রাখার জায়গায় সিসিটিভি বসানো, সেই ফুটেজ বাইরে স্ক্রিনে দেখানোর ব্যবস্থা, প্রার্থীর প্রতিনিধিদের পর্যবেক্ষণের সুযোগ এবং পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও বাধা না দেওয়ার নিশ্চয়তা।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্ট্রংরুমে রাখা ইভিএম সম্পূর্ণ সিল করা অবস্থায় নিরাপদে রয়েছে এবং সেখানে কোনও অনিয়ম হয়নি। পোস্টাল ব্যালট পৃথকীকরণের কাজ করিডরে বসে বিধি মেনেই করা হয়েছে। কমিশনের এই ব্যাখ্যার পরেও রাজনৈতিক মহলে স্ট্রংরুম বিতর্ক নিয়ে চাপানউতোর অব্যাহত রয়েছে।