রাজ্যের দুই দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন। ইভিএমে (EVM) বন্দি জনতার রায়। ফলাফল প্রকাশ পাবে ৪ মে। তবে ফল ঘোষণার আগেই আত্মবিশ্বাসে ভরপুর তৃণমূল শিবির। তাঁদের দাবি, বাংলার মানুষ ফের একবার আস্থা রাখছেন তাঁদের ওপরই। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) জানান, ২০০-রও বেশি আসন পেয়ে ক্ষমতায় ফিরছে তাঁদের দল। শুধু তাই নয়, ৬ মে চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)—এমনটাই দাবি তাঁর। রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এখন জোর চর্চা—ফলাফল কি সত্যিই তৃণমূলের প্রত্যাবর্তনের বার্তা দেবে, নাকি বদলের হাওয়া বইবে বাংলায়? সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষায়।
বাংলায় দুদফার ভোটে ২৯৪টি আসনের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবারের শেষ দফার ভোটগ্রহণের পর সামনে এসেছে একাধিক সংস্থার সমীক্ষা। বেশিরভাগ একজিট পোলেই এগিয়ে রাখা হয়েছে বিজেপিকে। যদিও কিছু সমীক্ষা আবার ইঙ্গিত দিচ্ছে তৃণমূলের প্রত্যাবর্তনের। ফলে চিত্র এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়—কেউই একশো শতাংশ নিশ্চিত হতে পারছে না কে গড়বে সরকার। তবে এই জল্পনা-সমীক্ষার খেলায় একেবারেই ভরসা রাখছেন না তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম। তাঁর বক্তব্য, সমীক্ষা নয়, শেষ কথা বলবে মানুষের রায়ই।
তৃণমূলের জয় নিয়ে একশ শতাংশ নিশ্চিত হয়ে কলকাতার মেয়র সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “২০২ থেকে ২২৫টি আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসবে আবার তৃণমূল।” এরপরই বলেন, “চতুর্থবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্ভবত ৬ তারিখ শপথ নেবেন তিনি। চতুর্থবার তৃণমূল সরকারের গঠন হবে।”
এসআইআরের পর এবার নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে, ইডির সক্রিয়তাও নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, তাঁদের রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করছে। যদিও এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে বিরোধী শিবির। তবে এসব বিতর্ক বা চাপের রাজনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম। তাঁর সাফ বক্তব্য, “ভোটের জন্য তল্লাশি, কামান-টামান নিয়ে এসে প্রদর্শনী করা, বাংলার মানুষকে ভয় দেখানো, এসব করে তৃণমূলকে আটকানো যায় না।”




