এবারের মতো মিটেছে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ পর্ব। তারপর থেকেই একটাই কথা টক অফ দ্য টাউন- পরিবর্তন নাকি প্রত্যাবর্তন? বুধবার সন্ধ্যে থেকে একাধিক একজিট পোল বিজেপিকে এগিয়ে রেখেছে। এবার সেই একজিট পোলকে হেলায় উড়িয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব চতুর্থবার সরকার গঠনের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বার্তায় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিলেন, “ছাব্বিশে আমরা ২২৬ পার করছি। ভরসা রাখুন, আমরাই আবার মা, মাটি-মানুষের সরকার গড়ছি।” একইসঙ্গে বঙ্গজয়ের লক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়া কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও তোপ দাগলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি টাকা দিয়ে, ক্ষমতার চাপ দিয়ে নিজেদের এগিয়ে রাখা একজিট পোল তৈরি করেছে।
উল্লেখ্য, এবার প্রথম এবং দ্বিতীয় দুই দফাতেই নজিরবিহীন ভোট পড়েছে বঙ্গে। বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটে বিক্ষিপ্ত হিংসার খবর মিলেছে। নজিরবিহীন ভাবে বুধবার সকাল থেকেই নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরের একাধিক জায়গায় দাপিয়ে বেড়ান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর অত্যাচার নিয়ে ভোটের দিন সকাল থেকেই সরব হতে দেখা যায় তাঁকে। এবার সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও বার্তাতেও একই কথা শোনা গেল তাঁর মুখে।তিনি বললেন, সেন্ট্রাল পুলিশ যে ব্যবহার করছে, বিশেষত যে পুলিশগুলো নতুন নিয়োগ পেয়েছে, তারা মহিলা ও শিশুদের মেরেছে।উদয়নারায়ণ পুরে যিনি ভোট দিতে গিয়ে মারা গিয়েছেন তাঁর পরিবারের পাশে আমরা থাকব। আমাদের কর্মীদের, সাংবাদিকদের মেরেছে। ভাটপাড়া, নোয়াপাড়া, জগদ্দলে অনেককে ইচ্ছাকৃত অ্যারেস্ট করেছে, যাতে তারা এজেন্টের কাজ করতে না পারে। ভবানীপুরেও সারা রাত রেড করেছে। আমি দুরাত ঘুমাইনি। আপনাদের বলব, এসব বিজেপির চক্রান্ত।” এরপরই একজিট পোলের ফলাফল নিয়ে বিজেপিকে তুলোধোনা করে মমতা বলেন, “বিজেপি এতো অত্যাচার করেও মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে পারেনি। তাই একজিট পোলে শেষ খেলাটা খেলেছে, যাতে আমাদের কর্মীদের, মানুষের মনোবল ভেঙে যায়।আসল সত্যিটা বেরলে শেয়ার বাজারে ধস নামবে।আমার কাছে নির্দিষ্ট ভাবে খবর আছে শেয়ার বাজারকে চাঙ্গা রাখতে এটা ওরা করিয়েছে। ২০১৬, ২০২১-এও একই ঘটনা ঘটেছে।”
একইসঙ্গে গণনা নিয়ে দলীয় কর্মীদের বড় বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।তাঁর কথায়, গণনায় সবাই সমান ভাবে পাহারা দেবেন। দরকারে আমিও আমার এলাকায় পাহারা দিতে নামব। ২৯৪টা কেন্দ্রে দিনের বেলায় কর্মঈদের রাখুন, রাতের বেলায় প্রার্থীরা নিজেরা থাকুন। তার কারণ স্ট্রং রুম থেকে কাউন্টিং হলে নিয়ে যাওয়ার সময় মেশিন বদলে দেওয়ার চক্রান্ত করেছে ওরা। অবহেলা করবেন না, নজর রাখবেন। কাউন্টিং-এ আমি যতক্ষণ না সাংবাদিক বৈঠক করব ততক্ষণ কেউ কাউন্টিং টেবিল ছাড়বেন না। কম্পিউটারের ইচ্ছাকৃত ভুল তুলতে পারে। সেটাও নজর রাখবেন। আমি নিজেও কাউন্টিং হলে হানা দেব। আপনার জায়গায় সম্পূর্ণ বিশ্বস্ত লোককে বসিয়ে তবে জায়গা ছাড়বেন।এতো কষ্ট করেছেন , এবার বাংলার মানুষের জন্য এইটুকু কষ্ট করতে হবে।”
পাশাপাশি সকলের কাছে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর আত্মপ্রত্যয়ী ঘোষণা,”দিদির প্রতি ভরসা রাখুন। আমাদের মা,মাটি-মানুষের সরকারই গঠন করছি, আমরাই সরকার গড়ব।নিশ্চিন্তে সংযতভাবে থাকুন। ওরা হামলা করলেও আপনারা এখনই হামলায় যাবেন না। আমি জানি কালও বেহালায় অনেককে মারধর করেছে। ভাঙ্গড়ে যেভাবে আমাদের কর্মীদের মারা হয়েছে এর জন্য আমরা ব্যবস্থা নেব। আপনারা আইন হাতে তুলে নেবেন না। “
প্রশাসনের প্রতি তাঁর কড়া বার্তা, “বিজেপির কথায় অনেক খেল আপনারা দেখিয়েছেন। দয়া করে গণনার দিন কোনও রাজনৈতিক দলের কোন কর্মীর গায়ে হাত দেবেন না। বাংলার মানুষ বহিরাগতদের সমর্থন করেননা।”




