Header AD

উচ্চ মাধ্যমিকে পাশের হারের নিরিখে প্রথম পূর্ব মেদিনীপুর, ফার্স্ট বয় আদৃতের পছন্দ জ্যোতির্বিজ্ঞান

WB HS Results

২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল (WB HS Results 2026)  প্রকাশ করল উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ ( West Bengal Council of Higher Secondary Education)। বৃহস্পতিবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হয়। এ বছর মোট ৬ লক্ষ ২৬ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৯১.২৩ শতাংশ।

জেলার নিরিখে পাশের হারে শীর্ষে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর ( Purba Medinipur)। সেখানে পাশের হার ৯৪.১৯ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে হাওড়া ( Howrah) এবং তৃতীয় স্থানে উত্তর ২৪ পরগনা (North 24 Parganas)। এবারের মেধাতালিকার প্রথম দশে জায়গা পেয়েছেন মোট ৬৪ জন পরীক্ষার্থী। সকাল ১১টা থেকে অনলাইনে ফল দেখা যাচ্ছে এবং একই সময়ে স্কুলগুলিতে পাঠানো হয়েছে মার্কশিট।

এবার উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম হয়েছেন বরাহনগরের আদৃত পাল। তিনি পড়াশোনা করেন নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ( Ramakrishna Mission Residential College Narendrapur) ছাত্র । মোট ৫০০-র মধ্যে ৪৯৬ নম্বর পেয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতে জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। ফল প্রকাশের পর আদৃত বলেন, মাধ্যমিকে কিছু ভুলের কারণে প্রত্যাশিত ফল পাননি। সে সময় তিনি মেধাতালিকায় একাদশ স্থানে ছিলেন। তাই একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে আরও মনোযোগ দিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ছোট পরিবারে বড় হওয়া আদৃত দীর্ঘদিন ধরেই আবাসিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। নিয়ম মেনে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাতেও অংশ নিতেন তিনি। পড়াশোনার বাইরে নিজেকে খাদ্যরসিক বলেই পরিচয় দিতে পছন্দ করেন আদৃত। বিশেষ করে মায়ের হাতের রান্না তাঁর খুব প্রিয়। নতুন নতুন খাবারের স্বাদ নিতেও আগ্রহী তিনি। স্কুলজীবনের শেষ পরীক্ষায় সাফল্যের শিখরে পৌঁছে এখন ভবিষ্যতের লক্ষ্য পূরণেই এগিয়ে যেতে চান আদৃত।

এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা ছিল একেবারেই নতুন নিয়মে। প্রথমবার চালু হয়েছে সেমেস্টার পদ্ধতি। সেই কারণে রিভিউ এবং পুনর্মূল্যায়নের নিয়মেও পরিবর্তন এসেছে। সংসদের তরফে জানানো হয়েছে, চতুর্থ সেমেস্টারের ফল নিয়ে কোনও পরীক্ষার্থীর আপত্তি থাকলে তিনি পুনরায় পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবেন। তবে সে ক্ষেত্রে চলতি বছরের মার্কশিট জমা দিয়ে পরের বছরের জন্য নতুন করে আবেদন করতে হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সাল থেকে একবারে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়ার যে পদ্ধতি চালু ছিল, গত বছরই ছিল তার শেষ অধ্যায়। চলতি বছর থেকেই সম্পূর্ণভাবে সেমেস্টার ভিত্তিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এছাড়াও, যারা আগের বছর অকৃতকার্য হয়েছিল বা টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি, তারাও নতুন পদ্ধতিতে পরীক্ষায় বসার সুযোগ পেয়েছে। পুরনো নিয়মে এ বছর পরীক্ষা দিয়েছে ১৫ হাজার ৪৯৫ জন।