অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)পারিবারিক বাসভবনকে কেন্দ্র করে ফের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কলকাতা পুরসভার অ্যাসিসর-কালেক্টর (দক্ষিণ) দফতর ১৮৮এ, হরিশ মুখার্জি রোডের সম্পত্তি নিয়ে একটি নোটিস জারি করতেই বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
পুরসভার নথি অনুযায়ী, ওই সম্পত্তিটি প্রথমে মেসার্স অনিমেষ ট্রেডলিঙ্ক প্রাইভেট লিমিটেডের নামে কেনা হয়েছিল। পরে সংস্থার নাম বদলে হয় ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস্ ইনফ্রা কনসালটেন্টস প্রাইভেট লিমিটেড’। অভিযোগ, পুরনো বাড়ি ভেঙে সেখানে নতুন করে ‘শান্তিনিকেতন’ নামে বহুতল নির্মাণ করা হলেও সম্পত্তির কর নির্ধারণ করা হয়েছে ‘মালিক-অধিকৃত’ হিসেবেই। বর্তমানে সেই কর দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাই, যদিও সেখানে বসবাস করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্যরা।
পুরসভার দাবি, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে যে নথিভুক্ত মালিক সংস্থা বাস্তবে ওই সম্পত্তি ব্যবহার করছে না। বরং অন্য ব্যক্তিরা সেখানে থাকছেন। এই কারণেই সম্পত্তির প্রকৃত ব্যবহার এবং মালিকানার অবস্থা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট চুক্তিপত্র, আর্থিক লেনদেনের নথি ও দখল সংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার, ১৯ মে জারি হওয়া ওই নোটিসে অ্যাসিসর-কালেক্টর (দক্ষিণ) অরূপ মণ্ডল জানিয়েছেন, চিঠি পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে। নোটিসটি পাঠানো হয়েছে ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস্ ইনফ্রা কনসালটেন্টস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর ডিরেক্টরের উদ্দেশে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, দক্ষিণ কলকাতার এই ঠিকানাতেই থাকেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার। ফলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, সম্পত্তির কর নির্ধারণ ও ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে অসঙ্গতির ইঙ্গিত মিলছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
পুর প্রশাসনের একাংশ অবশ্য জানিয়েছে, শহরের বিভিন্ন সম্পত্তির কর ও ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য পুনরায় যাচাইয়ের কাজ চলছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই নোটিস পাঠানো হয়েছে।





