মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে ঘোষিত সরকারি ছুটির তালিকাতেও বদল আনল নতুন রাজ্য সরকার। প্রতি বছরের শুরুতেই গোটা বছরের ছুটির ক্যালেন্ডার প্রকাশ করে নবান্ন। সেইমতো ২০২৬ সালের শুরুতে প্রকাশিত তালিকায় বকরি ইদ উপলক্ষে টানা দু’দিন ছুটির ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সেই সিদ্ধান্তে কাটছাঁট করা হল। সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বকরি ইদে আর দু’দিন নয়, একদিনই সরকারি ছুটি থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকারের ছুটির তালিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগামী ২৮ মে একদিনের ছুটিই বহাল রাখা হয়েছে।প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, কেন্দ্রের সঙ্গে ছুটির কাঠামোয় সামঞ্জস্য আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বকরি ইদ উপলক্ষে এর আগে ২৬ ও ২৭ মে টানা দু’দিন সরকারি ছুটির ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু শনিবার সেই নির্দেশই বাতিল করে দিল নবান্ন। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ২৬ ও ২৭ মে কোনও ছুটি থাকছে না। ওই দু’দিন রাজ্যের সমস্ত সরকারি দপ্তর খোলা থাকবে এবং স্বাভাবিকভাবেই কাজ চলবে। পরিবর্তে আগামী ২৮ মে বকরি ইদ উপলক্ষে একদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পি কে মিশ্র এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় সরকারের ছুটির তালিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন সরকারের এই পদক্ষেপ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই সরকারি দপ্তরে কর্মসংস্কৃতি ফেরানোকে অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। প্রশাসনের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, আর ফাঁকিবাজি বা অতিরিক্ত ছুটির সংস্কৃতি নয়— এবার সাধারণ মানুষকে দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা দেওয়াই হবে মূল লক্ষ্য। সেইমতো সরকারি কর্মীদের জন্য কড়া হাজিরা বিধিও চালু করা হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ১০টা ১৫-র মধ্যে অফিসে পৌঁছতে হবে কর্মীদের। বিকেল ৫টা ১৫-র আগে অফিস ছাড়াও যাবে না। অর্থাৎ দৈনিক অন্তত সাত ঘণ্টা কাজ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।এই আবহেই বকরি ইদের ছুটি দু’দিন থেকে কমিয়ে একদিন করার সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
সরকারের তরফে স্পষ্ট ইঙ্গিত, কাজের স্বার্থে অপ্রয়োজনীয় ছুটি কমিয়ে প্রশাসনিক গতি বাড়াতেই জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্তের পরই নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে সরকারি কর্মীদের মধ্যে। প্রশ্ন উঠছে, দুর্গাপুজোর সময় দীর্ঘদিন ধরে যে টানা ছুটির রেওয়াজ চলে আসছে, আগামী দিনে সেখানেও কি কাটছাঁট করতে পারে বর্তমান সরকার? যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।





