Header AD

জল্পনা বাড়িয়ে কল্যাণীতে শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠকে কাকলিসহ তৃণমূলের তিন বিধায়ক! কোন সমীকরণের ইঙ্গিত?

suvendu kakoli

সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়াকে চার দশকের রাজনৈতিক আনুগত্যের ‘পুরস্কার’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। এরপর রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে জেলা তৃণমূল সভাপতির পদ থেকেও ইস্তফা দেন তিনি। আর তার মধ্যেই মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।


কল্যাণীর এপিজে আব্দুল কালাম প্রেক্ষাগৃহে মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং হুগলির প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট জেলার বিধায়ক ও সাংসদেরা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কাকলি ছাড়াও দেগঙ্গার সদ্য নির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক আনিসুর রহমান বিদেশ, স্বরূপনগরের বীণা মণ্ডল এবং হাড়োয়ার আব্দুল মতিন।


স্বাভাবিকভাবেই বিরোধী শিবিরের মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূল প্রতিনিধিদের উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে অনেকের মতে, এটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। অতীতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের দেখা যেত না বলেই অভিযোগ ছিল। বিজেপির দাবি, আগে তাদের বিধায়কদের আমন্ত্রণই জানানো হত না। সেই প্রথা বদল করেই শুভেন্দু সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলগুলির জনপ্রতিনিধিদেরও ডাকা হবে।
বিজেপি সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই কাকলি-সহ তৃণমূল প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। তৃণমূল বিধায়কেরাও একই সুরে জানিয়েছেন, তাঁরা উন্নয়নের স্বার্থেই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। বীণা মণ্ডল বলেন, তাঁর বিধানসভা এলাকার উন্নয়নের প্রশ্নেই তিনি এসেছেন। হাড়োয়ার বিধায়ক আব্দুল মতিন জানান, রাজ্য সরকারের আমন্ত্রণেই তিনি উপস্থিত হয়েছেন। অন্য দিকে আনিসুর রহমান বিদেশের বক্তব্য, দেগঙ্গার মতো সীমান্তবর্তী ও প্রান্তিক এলাকার উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।


তবু সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সম্প্রতি তাঁকে তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতকের পদ থেকে সরিয়ে সেই দায়িত্ব ফের দেওয়া হয়েছে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এরপরই সমাজমাধ্যমে কাকলির ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে। তিনি লিখেছিলেন, “১৯৭৬ থেকে পরিচয়, ১৯৮৪-তে পথচলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।”


তার পর রবিবার বারাসত সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতির পদ থেকেও ইস্তফা দেন তিনি। ফলে শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁর উপস্থিতিকে অনেকেই রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন।যদিও এ বিষয়ে কাকলির প্রতিক্রিয়া সংক্ষিপ্ত। তিনি বলেন, “প্রশাসন সবার।”