Header AD

ফলতার ‘পুষ্পা’ ঘোর সঙ্কটে! রক্ষাকবচ প্রত্যাহার আদালতের, এবার কি গ্রেপ্তারের পালা জাহাঙ্গীরের?

jahangir

ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের আইনি সুরক্ষায় এবার ইতি টানল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার ছিল তাঁর রক্ষাকবচের শেষ দিন। মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানানো হলেও, তাতে সিলমোহর দিল না আদালত। বিচারপতি পার্থসারথী সেন-এর বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, নতুন করে কোনও অন্তর্বর্তী সুরক্ষা মিলবে না জাহাঙ্গিরের। শুধু তাই নয়, তাঁর দায়ের করা দুটি মামলার ক্ষেত্রেই আগের দেওয়া রক্ষাকবচও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি এবার বাড়তি চাপে পড়লেন ফলতার এই তৃণমূল নেতা।

এর আগে পাঁচটি মামলায় অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন ফলতার এই তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান। সেই ভরসাতেই ফের কলকাতা হাইকোর্ট-এর দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। রাজনৈতিক মহলে ‘পুষ্পা’ নামে পরিচিত জাহাঙ্গিরের আশা ছিল, আগের মতো এবারও মিলবে স্বস্তি। কিন্তু মঙ্গলবারের শুনানিতে সেই সম্ভাবনায় কার্যত ইতি টানল আদালত। শুনানিতে উঠে আসে, দায়ের হওয়া প্রতিটি এফআইআরের ক্ষেত্রেই মূল অভিযুক্ত জাহাঙ্গির খান। ভোটে তৃণমূল প্রার্থী হওয়ার ভিত্তিতে যে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা তাঁকে দেওয়া হয়েছিল, তা এখনও কেন বহাল থাকবে— সেই প্রশ্নও তোলে আদালত। শেষ পর্যন্ত বিচারপতি পার্থসারথী সেন-এর বেঞ্চ জাহাঙ্গিরের দুটি অন্তর্বর্তী মামলার রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়। ফলে এখন তাঁর গ্রেপ্তারিতে আর কোনও আইনি বাধা রইল না।

মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্ট-এ মামলার শুনানিতে জাহাঙ্গিরকে ঘিরে একের পর এক কড়া প্রশ্ন তোলে আদালত। শুনানিতে রাজ্য পুলিশের তরফে রিপোর্টও জমা দেওয়া হয়। সেই রিপোর্টের প্রেক্ষিতে বিচারপতি পার্থসারথী সেন স্পষ্ট জানান, নির্বাচনের সময় বিশেষ পরিস্থিতিতে মামলাকারীকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ মামলা দায়ের করার পর তদন্ত তো হবেই। আদালতের পর্যবেক্ষণ, অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি যদি তদন্তে উঠে আসে, তাহলে তা জাহাঙ্গির খানের পক্ষে মোটেই স্বস্তিদায়ক হবে না।

এমনকি বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “এখন কেন রক্ষাকবচ বহাল থাকবে?” আদালতে আরও উঠে আসে, ২০১৯ সালের একটি মামলাতেও রক্ষাকবচ চেয়েছিলেন ফলতার ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির। সেই সুরক্ষার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল বুধবার। তাই মঙ্গলবার ফের মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে হাইকোর্টে। তবে শুনানির সময় সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের কেউ উপস্থিত না থাকায় মামলাটি নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নির্বাচনের প্রেক্ষিতে কোনও নথি খতিয়ে না দেখেই ২৬ মে পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল। এখন ভোটপর্ব শেষ, তাই নতুন করে সেই রক্ষাকবচের প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন তোলে হাইকোর্ট।

রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতা হারানোর পর ফলতার ভোটের লড়াই থেকে নিজেই সরে দাঁড়িয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। এবার তাঁ কে ঘিরে আইনি জট আরও গভীর হল। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্ট-এ শুনানির সময় জাহাঙ্গিরের আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতের কাছে জানান, মামলার জবাব দেওয়ার জন্য আরও সময় প্রয়োজন। তবে সেই আর্জিতে বিশেষ স্বস্তি মেলেনি। আদালতে উঠে আসে, জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে মোট সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে। আগাম গ্রেপ্তারি এড়াতেই বারবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। কিন্তু এদিন সেই সমস্ত মামলায় দেওয়া অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ একযোগে প্রত্যাহার করে নেয় আদালত। শুনানিতে রাজ্যের তরফে আরও দাবি করা হয়, তদন্তে সহযোগিতা করবেন— এই শর্তেই জাহাঙ্গির খানকে আগেরবার রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন না বলেই অভিযোগ। রাজ্যের আইনজীবীর দাবি, পুলিশ আধিকারিকরা জাহাঙ্গিরের বাড়িতে গেলেও তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি তাঁর নামে জেনারেল ডায়েরিও নথিভুক্ত করা হয়েছে।