দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল-কে অবশেষে আটক করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। পুরীর একটি হোটেল থেকে তাঁকে আটক করে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এবং ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের যৌথ দল। সূত্রের খবর, তাঁকে দ্রুত কলকাতায় নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, অভিযোগ সেখানে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে হুমকিমূলক মন্তব্য করতে দেখা যায় এই তৃণমূল বিধায়ককে। সেই ঘটনার জেরে তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। পরে পুলিশ জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের অংশ হিসেবে গত ১৪ মে পৈলানে বিধায়কের বিলাসবহুল বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তবে সেখানে তাঁর খোঁজ মেলেনি। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের অভিযানের খবর পেয়েই তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানা যায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, কয়েক দিন আগে এসটিএফ জানতে পারে যে, পুরীর ‘ব্লু লিলি’নামের হোটেলে রয়েছেন দিলীপ মণ্ডল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে হোটেলে অভিযান চালানো হয়। হোটেলের রেজিস্টার পরীক্ষা করে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে তিনি সেখানেই রয়েছেন। পরে তাঁর ঘরে পৌঁছে তাঁকে আটক করা হয়।
উল্লেখ্য, এর আগেই বিধায়কের ছেলে অর্ঘ্য মণ্ডল-কে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় অশান্তি তৈরির অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলেও দাবি পুলিশের। একই ঘটনায় আরও চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় দিলীপ মণ্ডল এর আগে কলকাতা হাই কোর্ট-এর দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তিনি আদালতের কাছে রক্ষাকবচের আবেদন জানান এবং তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক এফআইআর খারিজের আর্জিও করেন। তবে সেই আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীনই তাঁকে পুরী থেকে আটক করল পুলিশ।
উল্লেখ্য, পৈলানে দিলীপ মণ্ডলের দুটি বাড়ি রয়েছে। তার মধ্যে একটি বিশাল এলাকা জুড়ে নির্মিত। বাড়ির বাগানে রয়েছে সুইমিং পুল, দোলনা, পশু পাখিদের জন্য মিনি চিড়িয়াখানা, দামি কাঠের আসবাব এবং রিসর্টের মতো সাজসজ্জা। বিভিন্ন শৌখিন ভাস্কর্য ও আলোকসজ্জায় সাজানো সেই প্রাসাদোপম বাড়ি ইতিমধ্যেই এলাকায় চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।





