শুরু হল অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম বিলি ও নাম যাচাই। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকারের হাত ধরে বুধবার থেকেই শুরু হচ্ছে কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র কাজ। বুধবার বিকেল থেকেই নবান্ন থেকে এই প্রকল্পের ফর্ম প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ থেকে আগামী ৯০ দিন অনলাইন এবং অফলাইন— দুই পদ্ধতিতেই আবেদন করা যাবে। যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান যারা লক্ষ্মী ভাণ্ডারের সুবিধা পান ফর্ম পূরণ করতে হবে তাদেরও। শহরে পুরসভা, ওয়ার্ড ভিত্তিক এবং বোরো অফিসে অফলাইনে ফর্ম পূরণ করা যাবে চলতি সপ্তাহের শুক্রবার থেকে। গ্রামাঞ্চলে পঞ্চায়েত গুলো ফর্ম বিলি ও ফিলাপে সহায়তা করবে। এছাড়া গ্রামে বাড়ি গিয়েও ফর্ম ফিলাপের কাজ হবে। ২ জুনের মধ্যে ফর্ম ফিলাপ করতে পারলে ৩ তারিখ থেকেই মিলবে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা। না হলে চালু থাকবে লক্ষ্মী ভাণ্ডার।
তবে সবাই এই সুবিধা পাবেন না। আবেদন জমা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তর তথ্য যাচাই করে ঠিক করবে কারা প্রকল্পের আওতায় আসবেন। আর সেই যাচাই প্রক্রিয়াতেই সরকারের প্রধান ভরসা ‘এসআইআর’-এ বাদ পড়া নামের তালিকা। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁদের নাম এসআইআরে নেই, তাঁদের প্রাথমিকভাবে অযোগ্য হিসেবে ধরা হচ্ছে। এর জেরে প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ মহিলার নাম ইতিমধ্যেই বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।এরফলে সরকারের প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।
পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, বহু ভুয়ো অ্যাকাউন্টে ঢুকছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে মু্খ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানালেন, ৩০ লক্ষ ভুয়ো অ্যাকাউন্টে ঢুকছিল টাকা। শুধু অনুপ্রবেশকারীই নন, বহু পুরুষের অ্যাকাউন্টেও নাকি ঢুকছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার! এদিন মুখ্যমন্ত্রী সাফ বললেন, “শুধু রাষ্ট্রবাদী ভারতীয় মহিলারাই পাবেন এই টাকা, কোনও রাকিবুল নন।”
মঙ্গলবার সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত যাঁরা এতদিন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর টাকা পেতেন, তাঁরা সেই সুবিধা পেতে থাকবেন। পরে যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে যোগ্যদের নতুন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সরকারি আধিকারিকদের মতে, এই যাচাইয়ের কাজ অত্যন্ত জটিল। শুধু এসআইআরের বাদ তালিকা নয়, বিভিন্ন জেলার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন নামগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আপাতত ৫৮ লক্ষ বাদ পড়া নামের তালিকা থেকে মহিলাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার ৫২৮ জন মহিলাকে আপাতত অযোগ্য বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা।
এতদিন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আওতায় ২ কোটিরও বেশি মহিলা ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছিল। এখন নতুন প্রকল্পে কতজন থাকবেন, সেই হিসেব কষতেই ব্যস্ত প্রশাসন।
ইতিমধ্যেই নাম, আধার নম্বর, ভোটার কার্ডের তথ্য মিলিয়ে জেলায় জেলায় যাচাই শুরু হয়েছে। পাশাপাশি জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত সরকারি পোর্টাল থেকেও মৃত উপভোক্তাদের নাম বাদ দেওয়ার কাজ চলছে।
সব মিলিয়ে, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ কার্যকর করতে প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।





