Header AD

শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনে তৃণমূলের সব পদ ছাড়লেন কাকলি

Kakoli resign

কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar) তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। বুধবার দলীয় রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে ( Subrata Bakshi) চিঠি পাঠিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান বারাসতের সাংসদ। মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন পদ-সহ দলের বিভিন্ন কমিটি ও দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

ইস্তফাপত্রে সরাসরি নাম না করলেও শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Kalyan Banerjee) নিশানা করেছেন কাকলি। তাঁর অভিযোগ, মহিলা সাংসদদের প্রতি এক দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণের বিরুদ্ধে তিনি পদে থেকেও কোনও ব্যবস্থা নিতে পারেননি। পাশাপাশি শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে সহযোগিতা বা সহানুভূতিও পাননি বলে দাবি করেছেন তিনি। তাই ওই পদে থাকার আর কোনও অর্থ নেই বলেই মন্তব্য করেছেন সাংসদ।

চিঠিতে আরও একাধিক স্পর্শকাতর ইস্যু তুলে ধরেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। আর জি কর কাণ্ড এবং রেশন দুর্নীতির মতো বিষয়েও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর লোকসভায় দলের চিফ হুইপের পদ থেকেও সরানো হয়েছিল কাকলিকে। এরপর থেকেই সমাজমাধ্যমে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করতে শুরু করেন তিনি। IPAC এবং দলের অন্দরের নেতৃত্ব নিয়েও প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন। পরে বারাসত জেলা সভাপতির পদ থেকেও ইস্তফা দেন তিনি।

এর মাঝেই মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত হন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সেই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোরদার হয় দলবদলের জল্পনা। যদিও তিনি স্পষ্ট করেছিলেন, প্রশাসনিক আমন্ত্রণ পেয়েই ওই বৈঠকে গিয়েছিলেন।

তবে সব পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও দল ছাড়ার কোনও ইঙ্গিত দেননি কাকলি। চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, সাংগঠনিক দায়িত্বে না থাকলেও দলের একজন কর্মী হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন।