Header AD

‘সব দায়িত্ব আমার’! অবশেষে CBSE-র ফলপ্রকাশে দুনীর্তির দায়স্বীকার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর

edu minister dharmendra

অবশেষে ১৫ দিন পর মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান । সিবিএসই-র দ্বাদশের মূল্যায়নে ‘দুর্নীতি’র দায়স্বীকার করলেন তিনি। আশ্বাস দিয়ে জানালেন, “সব ঠিক হয়ে যাবে। সমাধান খুঁজে বের করা হবে।” নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার পরে আন্দোলনে নেমেছিলেন পরীক্ষার্থীদের একাংশ। এর মাঝেই CBSE-র অন-স্ক্রিন মার্কিং (OSM) পদ্ধতি নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। পড়ুয়াদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নিচ্ছি। সমস্যার সমাধান করা হবে। আমরা সকলে সেই কাজেই ব্যস্ত রয়েছি।’

গত ১৩ মে সিবিএসই-র ফলপ্রকাশের পর থেকেই মূল্যায়নের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সমাজমাধ্যমে সরব হন পরীক্ষার্থীরা। অভিযোগ, উত্তরপত্রের প্রতিলিপি দেখানোর ক্ষেত্রে গাফিলতি রয়েছে। দেশজোড়া বিতর্কের মাঝেই এবার নড়েচড়ে বসে সর্বভারতীয় বোর্ড। যদিও এবিষয়ে এতদিন কোনও মন্তব্য করেননি ধর্মেন্দ্র। ১৫ দিন পর বৃহস্পতিবার মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। বলেন, মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় কোনও অনিয়ম পাওয়া গেলে কাউকে রেয়াত করা হবে না।” তিনি আরও বলেন, “অন-স্ক্রিন মার্কিং সিস্টেম বা ওএসএম একটি প্রগতিশীল পদক্ষেপ। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তা গ্রহণ করছে। এই ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের উপকারের জন্যই তৈরি করা হয়েছে, যাতে সবকিছু স্বচ্ছ থাকে।”

উল্লেখ্য, প্রথমবারের মতো সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির খাতা মূল্যায়ন অন-স্ক্রিন মার্কিং পদ্ধতি চালু করা হয়। কিন্তু ফল প্রকাশের পর বহু ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক অভিযোগ জানিয়েছেন, স্ক্যান করা উত্তরপত্র ঝাপসা ছিল। কোথাও কোথাও উত্তর মূল্যায়নই করা হয়নি। আবার কোথাও নম্বর গণনায় ভুলও দেখা গিয়েছে। রিভ্যালুয়েশন প্রক্রিয়াতেও সার্ভার সমস্যা ও পেমেন্ট গেটওয়ে নিয়ে বিভ্রাটের বিস্তর অভিযোগ ওঠে। এরকম একাধিক অভিযোগ তোলা হয়েছে অন-স্ক্রিন মার্কিং পদ্ধতি নিয়েও।

বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। কংগ্রেস ইতিমধ্যেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, যথাযথ পরীক্ষামূলক প্রয়োগ ছাড়াই এই নতুন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। যার ফলে লক্ষাধিক ছাত্রছাত্রীকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছ্তার অভাব নিয়ে কেন্দ্রের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নিশানা করেছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এর পাল্টা শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এ ভাবে সমালোচনা করে ছাত্রছাত্রীদের মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে তোলা উচিত নয়।’ তিনি জানান, প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। রিভ্যালুয়েশন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী জানান, মোট ১৭ লক্ষ পড়ুয়ার প্রায় ৯৮ লক্ষ উত্তরপত্র, অর্থাৎ প্রায় ৪০ কোটি স্ক্যান করা পৃষ্ঠা এই নতুন পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। সমস্ত উত্তরপত্র নিরাপদে সংরক্ষণ করা হয়েছে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।