বুধবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্ন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশ করেছেন। এই ফর্ম প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই কার্যত সাধারন মানুষের মধ্যে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। ১২ পাতার লম্বা ফর্মটি নিয়ে শুরু হয়েছে বিস্তর জল্পনা। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই ফর্মকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। পরিবারের সকল সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে বাড়ির জমি-খাজনার নথি সহ পরিবারের শিশুর টিকার হিসাব সবই বিস্তারিত ভাবে দিতে হবে এই ফর্মে। এর জেরেই শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। ফর্মের জটিলতা নিয়ে এবার সরব হল রাজ্যের বিরোধী দল তৃণমূলও।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূলের নবনির্বাচিত বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “লক্ষ্মীর ভান্ডার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করার পরে বিরোধীরা বলেছিল ভিক্ষা। পরে সেই লক্ষ্মীর ভান্ডার দেশের নানা প্রান্তে চালু হয়। আর্থিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিচ্ছিলেন।
অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্ম আগে দেওয়া হয়েছিল। বিজেপি বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলেছিল তিন হাজার টাকা পাবেন, সেই ফর্ম ফিলাপ করলে। এখন তারা কি বলবেন?”
প্রসঙ্গত ভোটের আগে অন্নপূর্ণা যোজনার যে ফর্ম বিলি করেছিল বিজেপি তার সঙ্গে বর্তমানে প্রকাশিত ফর্মটির কোনও মিল নেই। বরং নতুন করে সকলকে এই নতুন দীর্ঘ ফর্মটি ভরতে হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পরিপ্রেক্ষিতে কুণাল প্রশ্ন তোলেন, “এখন যে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্ম বেরিয়েছে তাতে নানা তথ্য দিতে হবে। অনেক মা বোনেরা সেটা পারছেন না। ভুল ত্রুটি যদি আগের ক্ষেত্রে থাকত তাহলে সেটা স্ক্রুটিনি করা যেত। বর্তমানে অনেকে ফর্ম ফিলাপ করতে পারবেন না। বারো পাতার ফর্ম কেন প্রয়োজন? পয়লা জুন থেকে অন্নপূর্ণা ভান্ডার দেওয়ার কথা। কিন্তু মে মাসের বকেয়া কোথায়? আবার লাইন দেওয়ানো হচ্ছে।বারো পাতার খুঁটিনাটি কেন? কেন হয়রানি করা হচ্ছে?”
একই সঙ্গে তিনি বলেন, “কোনও পুরুষ পেয়ে থাকলে বাদ দিন। এই অপকম্ম যে করেছে তাকে বাদ দিন। বকেয়া সহ প্রতিশ্রুতি মতো টাকা দিতে হবে।”





