দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনুষ্ঠিত হওয়া সিইউইটি-ইউজি (CUET-UG) পরীক্ষায় শনিবার বড়সড় প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ব্যাপক বিভ্রাট দেখা দেয়। নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছেও বহু পরীক্ষার্থী শেষ মুহূর্তে জানতে পারেন যে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে তাঁদের পরীক্ষা স্থগিত বা বিলম্বিত করা হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হন ছাত্রছাত্রীরা এবং বিভিন্ন কেন্দ্রে বিক্ষোভও দেখা যায়।
সম্প্রতি নিট (NEET) পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, এসএসসি জিডি (SSC-GD) পরীক্ষায় নানা অনিয়ম ও প্রযুক্তিগত ত্রুটির পর এবার সিইউইটি-ইউজি পরীক্ষাতেও সমস্যা ধরা পড়ায় কেন্দ্রীয় পরীক্ষাপদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, একের পর এক সর্বভারতীয় পরীক্ষায় এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) জানিয়েছে, পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা অনলাইন পরীক্ষাকেন্দ্রগুলির কিছু প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোয় সমস্যা দেখা দেওয়ায় পরীক্ষার সূচিতে পরিবর্তন আনতে হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছে সংস্থাটি।
তবে পরীক্ষার্থীদের ক্ষোভ তাতে কমেনি। অনেকের অভিযোগ, সকাল ৯টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তাঁরা প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষার পর কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ পান। আবার দুপুরের শিফটের পরীক্ষাও নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পরে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছে। আপ নেত্রী অতীশী (Atishi) সমজমাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভের ভিডিও শেয়ার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, বারবার পরীক্ষা ব্যবস্থায় এমন ব্যর্থতা লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
এদিকে, এই ঘটনার পর আবারও প্রশ্ন উঠেছে—কেন দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা ও নিয়োগ পরীক্ষাগুলিতে ধারাবাহিকভাবে প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে, এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।





