Header AD
Trending

তৃণমূল বিধায়কদের সই-বিতর্কে আদালতের দ্বারস্থ সিআইডি, হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ

tmc meeting

তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর সংক্রান্ত বিতর্কে তদন্ত আরও এক ধাপ এগোল। এই মামলায় তৃণমূল বিধায়ক বাহারুল ইসলাম, শুভাশিস দাস এবং অরূপ রায়ের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহের জন্য ব্যাঙ্কশাল আদালতের অনুমতি চেয়েছিল সিআইডি। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে।

ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে CID। একজন ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিকের নেতৃত্বে এই তদন্ত চলছে। বিধায়কদের স্বাক্ষরে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে রাজ্য বিধানসভার পক্ষ থেকে হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই কলকাতা পুলিশের তদন্তে সহায়তা করছে সিআইডি।

বিতর্কের সূত্রপাত বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে ঘিরে। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ৬ মে কালীঘাটে দলের বৈঠকে জয়ী বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেই বৈঠকে উপস্থিত বিধায়কেরা নেতৃত্ব নির্বাচনের দায়িত্ব দলনেত্রীর উপর ছেড়ে দেন বলে জানা যায়। পরে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে (Shovondeb Chattopadhyay) বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

এই মর্মে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বিধানসভায় পাঠানো হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। বিধানসভার যুক্তি ছিল, পরিষদীয় দলের নেতা ও অন্যান্য পদাধিকারী নির্বাচন পরিষদীয় দলের বৈঠকেই আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হওয়া উচিত, যা ওই ক্ষেত্রে হয়নি।

এরপর ১৯ মে ফের কালীঘাটে বৈঠক ডাকা হয় এবং সেখানে বিধায়কদের স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে জানা যায়। অভিযোগ, ওই স্বাক্ষরগুলি ৬ মে-র কার্যবিবরণীর নথিতে ব্যবহার করা হয়েছে। এই বিষয়টিকেই তদন্তকারীরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।

তদন্তের অংশ হিসেবে সিআইডি ইতিমধ্যে চারজনের বাড়িতে গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, তাপস মাইতি এবং বাহারুল ইসলাম।

সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে বাহারুল ইসলামের স্বাক্ষরকে কেন্দ্র করে। কারণ, ৬ মে-র বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন। বাহারুলের বক্তব্য, তদন্তকারীরা তাঁকে ওই দিনের অবস্থান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি জানান, ভোট-পরবর্তী অশান্তির কারণে সেদিন তিনি ভাঙড়ে নিজের বাড়িতেই ছিলেন এবং কোনও বৈঠকে যোগ দেননি। পরে তাঁকে যে নথিতে স্বাক্ষর দেখানো হয়, তা নিয়েও তিনি তদন্তকারীদের কাছে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। একই সঙ্গে বিষয়টি দলীয় নেতৃত্বের নজরেও এনেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এই স্বাক্ষর-বিতর্ক এখন রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। আদালতের অনুমতিতে হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহের পর তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।