তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) আচরণে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ উগরে দিলেন দলের সাংসদ ও প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। অভিষেকের হয়ে চলা একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কাছে স্পষ্ট বার্তাও দিয়েছেন।
সম্প্রতি সই জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় আইনি সুরক্ষা চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক। সেই মামলায় তাঁর পক্ষে আদালতে সওয়াল করার কথা ছিল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু শুনানির আগের দিনই আচমকা তিনি মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। জানা গিয়েছে, তাঁর ছেলে এবং মামলার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য জুনিয়র আইনজীবীরাও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরে অভিষেকের পক্ষে নতুন আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব নেন অয়ন ভট্টাচার্য।
এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কল্যাণ বলেন, মামলার দায়িত্ব পরিবর্তনের বিষয়ে তাঁকে বা তাঁর টিমকে যথাযথ সম্মান দেখানো হয়নি। তাঁর অভিযোগ, গভীর রাতে তাঁর ছেলেকে মেসেজ করে জানানো হয় যে অন্য এক আইনজীবী মামলাটি পরিচালনা করবেন। এই ঘটনাকে তিনি অপমানজনক বলে মনে করেছেন এবং অভিষেকের আচরণকে ‘অহংকারী’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে কল্যাণের মন্তব্য, দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্যও অভিষেকের ভূমিকা দায়ী। তাঁর দাবি, দলের বহু পুরনো নেতা ইতিমধ্যেই দূরে সরে গিয়েছেন এবং সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন জানাবেন—দলের ভবিষ্যৎ স্বার্থে তাঁকে এবং অভিষেককে নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
অভিষেককে সরাসরি নিশানা করে কল্যাণের তোপ, ‘ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য দলের এই অবস্থা। ওর জন্য সকলকে চোর চোর শুনতে হচ্ছে। দিদি ওকে নিয়ে চললে চলুক আমি থাকব না। আর ওকে বাদ দিয়ে চললে থাকব। ও সময় থেকে শিক্ষা নেয়নি। ঠান্ডা ঘরে বসে রাজনীতি করে। আমি ওর ক্যমাক স্ট্রিটের কর্মচারী নই। দলের এই কঠিন সময় আমি দিদির পাশে আছি। ওর মামলা আমি আর করব না। একজন সিনিয়র আইনজীবীর সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয় ও জানে না। বুধবার রাত সাড়ে ১২ টার সময় আমার ছেলেকে মেসেজ করে বলেছে আমাকে থাকার দরকার নেই। ওর প্রচণ্ড ঔদ্ধত্য। ওর জন্য দলটার সর্বনাশ হয়েছে। এখনও না বুঝলে কিছু করার নেই।‘
কল্যাণপুত্রও জানিয়েছেন, একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবে তিনি অসম্মান মেনে নিতে পারেন না। সেই কারণেই তিনি আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলা পরিচালনা করবেন না।
রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূলের অন্দরে যে অস্বস্তি ও মতপার্থক্য বেড়েছে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিস্ফোরক মন্তব্যে তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এখন এই বিতর্কে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী অবস্থান নেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।





