কলকাতার আর জি কর হাসপাতালের ছায়া এবার পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। সরকারি হাসপাতালের ভিতরে কর্তব্যরত এক মহিলা কর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় হাসপাতালেরই এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পাঁশকুড়া থানার পুলিশ। অভিযোগ, আগেও নির্যাতিতাকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেছে অভিযুক্ত। সূত্রের খবর, পাঁশকুড়া হাসপাতালে বেশ কয়েক বছর ধরে ওয়ার্ডগার্ল হিসেবে কাজ করছেন নির্যাতিতা। তাঁর অভিযোগ, রবিবার স্টোর রুমে তাঁকে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত। ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় মানুষ। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিও তোলেন বিক্ষোভকারীরা। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে হাসপাতালের কর্মীদের একাংশ পাঁশকুড়া থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যভবনে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন জেলার CMOH.
নির্যাতিতা ওই হাসপাতালে এক বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে কাজে নিযুক্ত হয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্ত শেখ জাইর আব্বাস খান ওই একই বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে কাজে নিযুক্ত হয়েছিলেন বলে খবর। তিনি ফেসিলিটি ম্যানেজারের পদে কর্মরত। নির্যাতিতার অভিযোগ, ‘‘গত ১৪ তারিখ রাতে ওষুধ দেওয়ার অছিলায় আমাকে ডেকে পাঠানো হয়। আমাকে ক্রমাগত শারীরিক সম্পর্কের জন্য জোরাজুরি করছিলেন। কাউকে বললে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দিচ্ছিলেন। পরে এই বিষয়ে আমি হাসপাতাল সুপারকে জানিয়েছি।’’ নির্যাতিতার দাবি, এর আগেও ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেছিল অভিযুক্ত। এই বিষয়ে তিনি তাঁর সংস্থার কর্তাদের জানিয়েছিলেন। অভিযোগ জানালেও কোনও ব্যাবস্থা নেয়নি সংস্থা। নিজেকে হাসপাতালে প্রভাবশালী বলেও পরিচয় দিত ওই যুবক। মঙ্গলবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। পাঁশকুড়া থানায় গিয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বিজেপি নেতারা। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য সিন্টু সেনাপতির কথায়, ‘‘আরজি কর কাণ্ড থেকে শিক্ষা নেয়নি তৃণমূল সরকার। পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ঘটনাই তার প্রমাণ। আবারও মহিলা কর্মীকে ধর্ষণের শিকার হতে হল। এই ঘটনায় আমরা চরম উদ্বিগ্ন।’’ তৃণমূলের তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি শেখ সমীরুদ্দীন বলেন, “এটাবিকৃত মানসিকতার প্রভাব। অভিযুক্ত যুবক আমাদের দলের কেউ নন। এই জঘন্য ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি হোক।”





