দুর্গাপুরে ডাক্তারি ছাত্রী গণধর্ষণ কাণ্ডে পুলিশ ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছে নির্যাতিতার এক বন্ধুও। চলছে জেরা ও নমুনা সংগ্রহের কাজ।এদিকে রবিবার উত্তরবঙ্গ যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দুর্গাপুরের ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।তিনি গোটা ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলো রাতে ছাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করুক। দুর্গাপুরের ঘটনায় যারা অপরাধী তাদের কঠিন শাস্তি হবে।”
শুক্রবার রাতে এক বন্ধুর সঙ্গে কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে ফুচকা খেতে বেরিয়েছিলেন দুর্গাপুরের শোভাপুর এলাকার একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ওই ছাত্রী। সেখানেই প্রথমে নিগৃহীত হন ওড়িশার বাসিন্দা ওই তরুণী। তারপর পাশের জঙ্গলে ওই তরুণীকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার করা হয় বলে অভিযোগ। তদন্তে নেমে শনিবার সন্ধ্যায় নির্যাতিতার বন্ধুকে প্রথমে আটক করে পুলিশ। তারপর গভীর রাতে আরও দুজনকে আটক করে রাত ভোর জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারী আধিকারিকরা। রবিবার সকালে তিনজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়।
দুর্গাপুরের ওড়িশার ছাত্রী ধর্ষনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাজি। তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দোষীদের কঠিন শাস্তি দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। শনিবার রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, মহিলাদের ওপর নির্যাতনে ‘ জিরো টলারেন্স ‘ নীতি নেওয়া হয়। দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া হবে।
এই ঘটনায় শনিবার ১২ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কলেজের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছিল স্বাস্থ্যভবন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সিসিটিভি ফুটেজ সংক্রান্ত একটি বিবৃতি দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার ঘটনার রাতের গতিবিধির বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে সেখানে। তাতে তরুণী ঘটনার দিন কখন বেরিয়েছিলেন, কখন হস্টেলে ফেরেন, কখন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, রয়েছে সব বিস্তারিত তথ্য। সব খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে চিঠি দিয়েছেন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহাতকর। স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট যাঁরা গত বছর আর জি কর আন্দোলনের প্রথম সারিতে ছিল। দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘোরুইয়ের নেতৃত্বে রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে । নিউ টাউনশিপ থানা ঘেরাও করে তারা। রাজ্যের শিশু ও নারীকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, ” নির্যাতিতা ওড়িশার। ওর পরিবার এ রাজ্যের তদন্তে আস্থা রেখেছেন। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। শীঘ্রই দোষীদের গ্রেপ্তার করা হবে। “





