বাংলায় এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকেই অনেক মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে নাম না থাকার জন্য কেউ ভয়ে আত্মহত্যা করছেন। আবার কারও মৃত্যু হচ্ছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এসআইআর সংক্রান্ত নানা ভিডিও দেখেও অনেকের মনে ঢুকছিল ভয়। সেই আতঙ্কেই এবার মৃত্যু হল বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিকের! মৃত ব্যক্তির নাম সেরফুল শেখ হক। তাঁর বাড়ি মুর্শিদাবাদের নওদায়। তিনি কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরুতে ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। বুধবার সকালে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটার পর মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছতেই শোকের ছায়া নামে পরিবারে। ওই ব্যক্তি এসআইআর আতঙ্কে ভুগছিলেন বলে তাঁর পরিবারের সদস্যদের তরফে দাবি করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদের নওদা ব্লকের বালি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্যামনগর গ্রামের পরিযায়ী শ্রমিক সেরফুল শেখ হক। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে এই বিষয়ে বিভিন্ন ভিডিও তিনি দেখতেন বলে দাবি পরিবারের। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। তবুও তাঁর আতঙ্ক কিছুতেই কাটছিল না! শুধু তাই নয়, শ্যামনগর গ্রামের স্থানীয় বিএলও রবি মালিত্যাকেও তিনি বেঙ্গালুরু থেকে ফোন করেছিলেন। তাঁকে কি বাংলাদেশে চলে যেতে হবে? এই আশঙ্কার কথাও রবিকে সেরফুল আতঙ্কিত হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন! কোনও সমস্যার মধ্যে তিনি পড়বেন, সেই বিষয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন বিএলও।উল্লেখ্য, বুধবার সকালে হঠাৎই তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করলেই, দ্রুত তাঁকে স্থানীয় বাসিন্দারা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে গেলে চিকিৎসক জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। হাসপাতালে আনার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। দুঃসংবাদ বাড়িতে পৌঁছলেই কান্নার রোল ওঠে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। এই একই ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়াতেও। জানা গিয়েছে, বাদুড়িয়া থানার যদুরহাটি পূর্ব এলাকার বাসিন্দা সফিকুল মণ্ডলও এসআইআর আতঙ্কে ভুগছিলেন। কারণ ভোটার তালিকায় তাঁর নাম থাকলেও পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম ছিল না। এই জন্য তিনি মঙ্গলবার বিকেলে বাড়িতেই কীটনাশক খান। এইভাবে এসআইআর আতঙ্কে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মনে।





