Header AD

নথি ছাড়াই ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারবে ৩ আদিম জনজাতি! নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

এসআইআর শুনানিতে (SIR) কোনও নথি না দেখিয়েই নতুন ভোটার তালিকায় নাম উঠে যাবে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকা আদিম জনজাতি বিরহোড়, টোটো ও লোধা শবর থেকে খেড়িয়া শবরদের। তাঁদের প্রয়োজন নেই ১৩ টি নথির। এই নতুন নির্দেশ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। শুধু অনুমোদন নিতে হবে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকের। এই নতুন নির্দেশে  উপজাতিদের নাম, বাসস্থানের তালিকা সংশ্লিষ্ট ব্লকের বিডিওদের কাছে তলব করেছেন জেলাশাসকরা। আর এই কাজ করতে গিয়ে ওই জনজাতির যে সকল সদস্যদের তফসিলি উপজাতি শংসাপত্র নেই সেই কাজও করে দেবে প্রশাসন।

কেন্দ্রীয় সরকারের আওতাভুক্ত পিভিটিজি বা ‘পার্টিকুলারলি ভালনারেবেল ট্রাইবাল গ্রুপ’-এ রয়েছে ক্রমশ লুপ্তপ্রায় বিরহোড় ও টোটো জনজাতি। পুরুলিয়ার তিনটি ব্লক বলরামপুর, বাঘমুন্ডি ও ঝালদা ১-এ সেই জনজাতি রয়েছে। একইভাবে আদিবাসী তালিকাভুক্তের আওতায় থাকা টোটো জনজাতিদের বাস উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট ব্লকের ভুটান সীমান্তে টোটোপাড়া গ্রামে। এছাড়াও কয়েকটি পরিবার ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। জনসংখ্যা প্রায় ১৭০০। তবে বিরহোড়দের সংখ্যা আরও কম। প্রায় ৩০০।

এই জনজাতি এতটাই অরণ্য নির্ভর যে পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলের ওই তিন ব্লক এলাকায় রাজ্য সরকার পাকা বাড়ি বানিয়ে দিলেও তারা  গুহায় থাকতে ভালোবাসেন। অন্যদিকে লোধা শবর ও খেড়িয়া শবরদের সংখ্যাও ক্রমশ কমছে। ঝাড়গ্রামের ৭ টি, পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৪ টি ও পূর্ব মেদিনীপুরের ১ টি ব্লকে এই জনজাতির মানুষের বসবাস। সব মিলিয়ে লোধা শবরদের জনসংখ্যা প্রায় লক্ষাধিক। খেড়িয়া শবর জনজাতি রয়েছে শুধুমাত্র পুরুলিয়াতেই। তাদের মোট পরিবারের সংখ্যা ৩ হাজার ১২৭ । জেলার ১১ টি ব্লকের ১৬৮ টি টোলায় তাদের বসবাস। এই শবর জনজাতিকে ব্রিটিশরা ‘অপরাধপ্রবণ’ আখ্যা দিয়েছিল। তকমা ছিল ‘জন্ম অপরাধী।’ ১৮৭১ সালে ‘ক্রিমিনাল ট্রাইব অ্যাক্ট’-র অধীনে তাদেরকে নিয়ে আসা হয়। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৫২ সালে সেই আইন রদ হয়। কিন্তু এখনও অরণ্যের ঠিকানা তাদের বদলায়নি। বিরহোড় দের মতো খেড়িয়া শবররাও পাহাড় জঙ্গলে থেকে শিকার করতে ভালোবাসেন। রামায়ণ, মহাভারত, চর্যাপদ এমনকি বেদ গীতাতেও শবরদের উল্লেখ রয়েছে। সেই কথা মাথায় রেখেই কমিশনের এই সিদ্ধান্ত।