Header AD

কমিশনকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পালন করার পরামর্শ তৃণমূলের

ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বড় জয় পেল বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যের অসঙ্গতির কারণে কতজনের নাম তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে তা প্রকাশ্যে আনতে হবে ও শুনানি কেন্দ্রে রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্ট বা বিএলএ-দের থাকতে দিতে হবে, এমন সব দাবি শুরু থেকেই জানিয়ে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার সেই দাবিকেই মান্যতা দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে যে তালিকা থেকে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছিল সেই ভোটারদের সম্পূর্ণ লিস্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। এবার থেকে হিয়ারিং সেন্টারে শুনানির সময় বিএলএ-রা কেবল উপস্থিতই থাকতে পারবেন না, বরং ভোটারের হয়ে সওয়ালও করতে পারবেন। আর সুপ্রিম কোর্ট রায় দেওয়ার পরই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কোর্টে হারিয়েছি, এপ্রিলে ভোটে হারাব।’

যার ফলে এদিন এই সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে তৃণমূল ভবনে একটি সাংবাদিক বৈঠক করা হয়। এই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংসদ পার্থ ভৌমিক, মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও ব্রাত্য বসু। সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক থেকে সংসদ পার্থ ভৌমিক বলেন, “উচ্চ আদালতকে আমরা ধন্যবাদ জানাচ্ছি, আমরা কুর্নিশ জানাচ্ছি। আমরা এটাই বলতে চাই যে বাংলা সাধারণ মানুষের উপর যে হেনস্থা হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে পর্যবেক্ষণ করে মহামান্য আদালত কিছু সুনির্দিষ্ট রায় ঘোষণা করেছে। ১০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হিয়ারিং শেষ করতে হবে। শুধু লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা পাঠালেই হবে না তাতে সেই ভোটারের নাম কেন আছে- তাও ব্যাখ্যা করতে হবে। এবার থেকে বি এল এ টুকে করতেই হবে হিয়ারিং সেন্টারে। কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক সুরে সাংসদ বলেন, এবার থেকে আধার কার্ডকেও মান্যতা দিতে হবে, এডমিট কার্ডকেও মান্যতা দিতে হবে। যেখানে এডমিট কার্ড, আধার কার্ডকে মান্যতা দেওয়া হবে না সেই সব ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের কাছে নির্বাচন কমিশনকে তালিকা দিতে হবে”।

এদিনের বৈঠক থেকে মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। কারণ তারা সাধারন মানুষের যাতে সুবিধা হয় তা দেখে সংসদীয় গণতন্ত্রে যেটা প্রয়োজন সেই প্রয়োজনের কথাই বারবার তুলে ধরেছেন, যার মান্যতা সর্বোচ্চ আদালত দিয়েছে”। নির্বাচন কমিশনকে কটাক্ষ করে মন্ত্রী চন্দ্রিমা বলেন, “একজন ভোটার যে বৈধ ডকুমেন্ট দিল তার সঠিক কোন রশিদ দিচ্ছেন না। কিছুদিন আগে একটি গাড়িতে একগুচ্ছ ফর্ম ৭ ধরা পড়ায় কমিশনের দিক থেকে নোটিফিকেশন জারি করে আইন করে দেওয়া হল যে একগুচ্ছ ফর্ম জমা দেওয়া যাবে। কারণ গাড়িতে চার-পাঁচ হাজার ফর্ম ধরা পড়েছে তাই জন্যই একগুচ্ছ ফর্ম জমা দেয়াটাও নিয়ম করে দেয়া হল। আজকে সর্বোচ্চ আদালত কমিশনের আঙুল নিচে নামিয়ে দিয়েছে। বুঝিয়ে দিয়েছে যে সাধারণ মানুষের কথা ভেবে কাজ কর। যার ফলে আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই সর্বোচ্চ আদালতকে”।

সাংবাদিক বৈঠক থেকে মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় বুঝিয়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস যে দাবিগুলো করছিল এসআইআর নিয়ে তা সর্বত্রই ঠিক। আর আমি চাই যে, জাতীয় নির্বাচন কমিশন অফিসের সামনে ও রাজ্য নির্বাচন কমিশন অফিসের সামনে আজকের এই রায়টি টাঙিয়ে দেওয়া হোক। তাহলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে কথাটা বলেছেন যে যা ভাষা বোঝে তাকে সেই ভাষাতেই বলতে হবে। তুমি বেআইনি ভাষা বোঝো আমরা আইনের ভাষা বুঝি, তুমি বেআইনি কাজ কর আমরা আইনের কাজ করি। এবং এই আইনই তোমাকে এই পদ্ধতি মৃদু কতগুলি থাপ্পড় মেরেছে তুমি সেগুলি দেখে নাও। SIR এর সঙ্গে CAA যুক্ত করে দিচ্ছে বিজেপি। এইভাবে এটা একটা ঘৃণ্য পলিটিক্স করার চেষ্টা করছে এসআইআর নিয়ে। সবকিছুর পরেও তৃণমূল কংগ্রেস আজ তার ন্যায্য দাবি ছিনিয়ে নিয়ে এসেছে”। সব মিলিয়ে দেখার বিষয় হল, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ফলে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ কি হয়।