Header AD

SIR-এর জের মাধ্যমিকে! পরীক্ষার সময় শিক্ষকদের ছাড় দেওয়ার আবেদন পর্ষদের

রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বহু সরকারি কর্মী, বিশেষ করে শিক্ষকরা, এই কাজে যুক্ত রয়েছেন। ঠিক সেই সময়েই শুরু হতে চলেছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা, যা ছাত্রছাত্রীদের জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা। ফলে দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া একসঙ্গে চলায় তৈরি হয়েছে জটিলতা। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় জেলাশাসকদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে আবেদন জানিয়েছেন, মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় যেন এসআইআরের কাজে যুক্ত শিক্ষকদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। নচেৎ পরীক্ষক ও পরীক্ষাকেন্দ্র পরিচালনায় গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে মাধ্যমিক পরীক্ষা। পরীক্ষা যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে বরাবরের মতোই তৎপর মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। কিন্তু এসআইআরের শুনানি পর্ব চলবে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এই সময় বহু শিক্ষক বিএলও হিসেবে নিযুক্ত থাকায় পরীক্ষার কাজে তাঁদের পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

পর্ষদের হিসেব অনুযায়ী, এ বছর রাজ্যজুড়ে ২ হাজার ৬৮২টি পরীক্ষাকেন্দ্রে মাধ্যমিক দেবে মোট ৯ লক্ষ ৭১ হাজার ৩৪০ জন পরীক্ষার্থী। এই বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীর জন্য অন্তত এক লক্ষ পরীক্ষকের প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এসআইআরের কাজে নিযুক্ত থাকার কারণে পরীক্ষকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এতে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পর্ষদ সভাপতি আরও জানিয়েছেন, শুধু পরীক্ষক নয়—সেন্টার ইনচার্জ ও ভেন্যু সুপারভাইজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও পর্যাপ্ত শিক্ষক প্রয়োজন। তাঁদের অনেকেই বর্তমানে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে যুক্ত। তাই এই পদগুলির ক্ষেত্রেও শিক্ষকদের সাময়িক অব্যাহতির আবেদন জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সবরকম সহযোগিতা করা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, মাধ্যমিকের পরেই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হবে। তবে ততদিনে এসআইআরের কাজ শেষ হয়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা। তাই উচ্চমাধ্যমিকে পরীক্ষকের অভাব হওয়ার আশঙ্কা নেই। মূল চিন্তা তৈরি হয়েছে এসআইআর শেষ হওয়ার আগেই মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হওয়া নিয়ে।

এখন পর্ষদের এই আবেদনের পর নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে শিক্ষক, পরীক্ষার্থী থেকে অভিভাবক—সব পক্ষই।