Header AD

আলিপুরদুয়ারে বেপরোয়া গতির বলি ৩ বন্ধু, হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন আরও এক

সোমবার গভীর রাতে এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক। ওদিন রাতে চার বন্ধু একটি গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন। ঝড়ের গতিতে গাড়ি চালানোর ফলে জাতীয় সড়কের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছোট গাড়িটি রাস্তার ধারের এক বিশাল বটগাছে ধাক্কা মারলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিন জনের। মৃতদের বয়স ২৩ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। সংঘর্ষের তীব্রতায় গাড়িটি সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে গিয়েছে। অন্য যুবকটিও গুরুতর আহত। তিনি বর্তমানে কোচবিহার মেডিকেল কলেজে কার্যত মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। হাড়হিম করা ওই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে আলিপুরদুয়ার জেলার পুটিমারি গ্রামে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই চারজন প্রাণের বন্ধু ছিলেন। মাঝেমধ্যেই চারচাকা গাড়ি নিয়ে রাতে বেরিয়ে পড়া ছিল তাঁদের নেশা। সোমবার রাতেও তারা গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন। রাত ২টা নাগাদ  গাড়িটি প্রবল গতিতে বারোবিশার দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু পুটিমারি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি রাস্তার পাশে থাকা একটি বটগাছে সজোরে ধাক্কা মারে। সেখানেই তিন যুবকের মৃত্যু হয়। মৃতদের নাম প্রদীপ ঘোষ, অভিজিৎ দাস ও দীপ দাস। জখম যুবকের নাম বিনয় পালচৌধুরী। ওই গাড়ি বিনয়েরই বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। মৃত ৩ জনের বাড়ি আলিপুরদুয়ারের বিবেকানন্দ ক্লাব, রাজাভাতখাওয়া ও জিতপুর এলাকায়। জখম তরুণ ভোলারডাবরির বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে খবর, দুর্ঘটনার পরে আরোহী তিন তরুণ ছিটকে পড়েন রাস্তার ওপর। বিকট আওয়াজ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে দ্রুত পৌঁছয় শামুকতলা রোড ফাঁড়ির পুলিশ। ওসি সঞ্জীব মোদকের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী রক্তাক্ত অবস্থায় ওই তরুণদের উদ্ধার করে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তিনজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। কিন্তু কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা? তাঁরা কি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন? নাকি প্রবল গতিতে গাড়ি চালানোই কাল হল? সেই বিষয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। ওসির কথায়, “গাড়ির চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন কি না বা যান্ত্রিক কোনও ত্রুটি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”