Header AD

রাজ্যের দুই আবেদনকেও মান্যতা! বকেয়া DA দেওয়ার নির্দেশ, সময়ও বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট

২০১৯ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের যে বকেয়া ডিএ ছিল, তার ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বেঁধে দিল সময়ও। বাকি বকেয়ার ৭৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার জন্য নতুন কমিটি গঠনের কথা বলেছে শীর্ষ আদালত। আগামী ৬ মার্চের মধ্যে জানাতে হবে বাকি ৭৫ শতাংশ ডিএ কী ভাবে দেওয়া হবে। সেই টাকার প্রথম কিস্তি দিতে হবে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে। রাজ্যের দুই আবেদনকেও এদিন মান্যতা দিয়েছে শীর্ষ আদালত। DA মৌলিক অধিকার নয় জানাল সুপ্রিম কোর্ট। সেইসঙ্গে বছরে ২ বার ন একবার ডিএ দেওয়ার পক্ষেই রায় দিল।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে ছিল DA মামলার শুনানি। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ-র দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছিলেন এ রাজ্যের সরকারি কর্মীদের একাংশ। শেষপর্যন্ত সেই মামলার রায় গেল রাজ্য সরকারি কর্মীদের পক্ষে। রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে মেটাতে হবে বকেয়া DA, আজ বৃহস্পতিবার এই রায় দেয় বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের বেঞ্চ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, এখনই দিতে হবে ২৫ শতাংশ DA। সেই কারণে ৬ মার্চের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৩ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এই কমিটিতে থাকছেন। রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করে টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হবে। সেই কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে বাকি বকেয়ার কতটা পরিমাণ ডিএ দেওয়া হবে তা নিয়ে। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে দিতে হবে প্রথম কিস্তির টাকা। আগামী মে মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে জমা দিতে হবে সেই রিপোর্ট।

রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ দেওয়ার নির্দেশ আগেই দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার। সেখানে বকেয়া ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার জন্য বেঁধে দেওয়া হয়েছিল ৬ সপ্তাহের সময়। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে বকেয়া ডিএ দিতে পারেনি রাজ্য। বরং সুপ্রিম কোর্টের কাছে অতিরিক্ত ৬ মাস সময় চাওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হয়েছিল শুনানি। আজ বৃহস্পতিবার সেই ডিএ মামলার  রায় ঘোষণা হল। শীর্ষ আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, উপভোক্তা মূল্য সূচক অনুযায়ী ডিএ পাওয়া রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের আইনি অধিকার। তাই সেই অধিকার থেকে তাঁদের বঞ্চিত করা যাবে না। তবে সুপ্রিম নির্দেশ অনুযায়ী, মে মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে একটি রিপোর্ট পেশ করতে হবে ওই কমিটিকে।

শীর্ষ আদালত এদিন জানিয়েছে, ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত যে বকেয়া ডিএ রয়েছে তা তিন মাসের মধ্যে মেটাতে হবে। সেটার ডিসবার্সমেন্ট আদালত গঠিত কমিটি শুধু স্থির করবে তাই নয়, তার বাস্তবায়ণের উপরও নজর রাখবে।  সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার  রিভিউ পিটিশন দাখিল করবে কিনা তা এখনও জানা যায়নি।