Header AD

শমীক কাণ্ডে বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ! বান্ধবীকে নির্যাতনের অভিযোগ স্বীকার করলেন ছেলের মা–বাবা

বান্ধবীকে শারীরিক নির্যাতন ও যৌন হেনস্তার অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতেই গ্রেপ্তার হন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার শমীক অধিকারী ওরফে ‘ননসেন’। আদালতের নির্দেশে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হবে। শমীকের গ্রেপ্তারির পর থেকেই ঘটনাটি ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে নানা জল্পনা ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা। সম্প্রতি ‘বাটন’ শীর্ষক একটি ভিডিওতে তিনি বাংলার বিরোধী শিবিরের হয়ে প্রচার করেছিলেন—এই দাবি তুলে ধরে নেটিজেনদের একাংশ শাসক দলকে জড়িয়ে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’-এর তত্ত্ব খাড়া করার চেষ্টা করছেন। তবে এই সব বিতর্কের মধ্যেই সামনে এল এক বিস্ফোরক তথ্য —অভিযুক্তের মা ও বাবা প্রকাশ্যে স্বীকার করলেন ছেলের দোষের কথা।

অভিযোগকারিণী তরুণীর দাবি, অশান্তির সময় শমীক তাঁকে মারধর করে অজ্ঞান করে দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিভাবকের উপস্থিতিতেই শমীকের ফ্ল্যাটে এই ‘পাশবিক’ আচরণ চলে। নির্যাতিতার কথায়, মারধরের ফলে তাঁর এক চোখ ক্ষতি গ্রস্ত হয়েছে এবং চোখের নিচে এখনও কালশিটে রয়েছে। চিৎকার শুনে শমীকের মা–বাবা সেখানে এলেও, শমীকের আত্মহত্যার হুমকিতে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে তাঁকে একা ফেলে চলে যান বলে অভিযোগ। এমনকি ফোন করার জন্য অনুরোধ করলেও কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি বলে দাবি করেন তরুণী।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে শমীকের মা বলেন, তাঁরা বিষয়টি প্রথমে ব্যক্তিগত ঝামেলা বলে ভেবেছিলেন। তাঁর ভাষায়, “আমরা ঠিক বুঝতে পারিনি কী হচ্ছিল। ঘর শিফট করার কাজ চলছিল, তাই ব্যস্তও ছিলাম। পরিস্থিতি এমন জায়গায় যায় যে শমীক ওকে একটা চড় মারে।” পাশেই থাকা শমীকের বাবা জানান, চেঁচামেচি শুনে তিনি দৌড়ে যান। তাঁর দাবি, “হাত ধরে টানাটানির সময়ই হয়তো কালশিটে পড়ে গেছে।” তবে মা–বাবা দু’জনেই একবাক্যে স্বীকার করেছেন যে তাঁদের ছেলে ওই তরুণীকে চড় মেরেছিল এবং শারীরিক ভাবে হেনস্তাও করেছিল।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, শমীক অধিকারীর বিরুদ্ধে বেহালা থানায় বলপ্রয়োগ, জোর করে আটকে রাখা, শারীরিক নিগ্রহের পাশাপাশি ধর্ষণের ধারাও যুক্ত করেছে পুলিশ। পাশাপাশি জানা গিয়েছে, তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষায় আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। অভিযুক্তের মা–বাবার মন্তব্যে তরুণীর উপর বলপ্রয়োগ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ আরও জোরালো হল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।