Header AD

ভারত ম্যাচ বয়কটের হুঙ্কার ফিকে, পিছু হটছে পাকিস্তান? পিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে চাপ বাড়ছেই। শ্রীলঙ্কার পর এ বার সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ক্রিকেট বোর্ডও সরাসরি পাকিস্তানকে জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামা উচিত তাদের।

ইমেলে আমিরশাহি বোর্ড স্মরণ করিয়েছে, পাকিস্তান ক্রিকেটের সঙ্গে তাদের দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক রয়েছে। অতীতে নিরাপত্তাজনিত কারণে পাকিস্তান নিজেদের ‘ঘরের’ ম্যাচ আমিরশাহিতে আয়োজন করেছে, সেই সময় পাশে দাঁড়িয়েছিল ইউএই। সেই সম্পর্কের কথা মাথায় রেখেই তারা জানিয়েছে, ভারত ম্যাচ বয়কট করলে শুধু পাকিস্তান নয়, আইসিসির সদস্য ও সহযোগী দেশগুলিও বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। তাই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করা হয়েছে পাক বোর্ডকে।

এই পরিস্থিতিতে রবিবার লাহোরে পিসিবি কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খোয়াজা-সহ প্রতিনিধিরা। বৈঠকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, ভারত ম্যাচ না খেললে পাকিস্তানকে আর্থিক জরিমানা তো বটেই, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নির্বাসনের মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখেও পড়তে হতে পারে। সূত্রের খবর, পিসিবির অন্দরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদ তৈরি হয়েছে। একাধিক কর্তা চাইছেন, বিশ্বকাপে ভারত-পাক ম্যাচ হোক। যদিও চেয়ারম্যান মহসিন নকভি এখনও সরকারি অবস্থানেই অনড়।

এর মধ্যেই জানা গিয়েছে, পাকিস্তান আইসিসির কাছে তিনটি শর্ত রেখেছে—
এক, আইসিসির লভ্যাংশ থেকে পিসিবির প্রাপ্য বাড়াতে হবে। দুই, ২০০৮ সাল থেকে বন্ধ ভারত-পাক দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় ফের শুরু করতে হবে। তিন, ভারতীয় ক্রিকেটারদের পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে করমর্দনে বাধ্য করতে হবে। এর মধ্যে শেষ দুই শর্ত মানা আইসিসির পক্ষে কার্যত অসম্ভব, কারণ সেগুলি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত। আইসিসির সেখানে হস্তক্ষেপের কোনও সুযোগ নেই।

সব মিলিয়ে চাপের মুখে সুর নরম করতে শুরু করেছে পাকিস্তান। জানা যাচ্ছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে পিসিবি। তার আগে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন মহসিন নকভি। ক্রিকেট মহলের ধারণা, বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়া বা বিপুল জরিমানার ঝুঁকি নিতে চাইবে না পাকিস্তান। ফলে সব নাটক ভুলে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি টিম ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামার সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে বেশি।