বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বাংলাদেশে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেশের মোট ভোটকেন্দ্রের অর্ধেকেরও বেশি কেন্দ্রকে ‘স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। প্রায় ৯ লক্ষের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন থাকবেন, পাশাপাশি থাকবে ড্রোন, সিসি ক্যামেরা ও বডিক্যামের কড়া নজরদারি।
নির্বাচন কমিশনের দাবি, অঞ্চলভিত্তিক ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুল ফজল মুহাম্মদ সানাউল্লাহ জানান, কোন এলাকায় কতটা সংবেদনশীল পরিস্থিতি রয়েছে, তা বিচার করেই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে সারা দেশে মোট প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্র থাকবে। এর মধ্যে প্রায় ২৪ হাজার কেন্দ্রকে অত্যন্ত বা মাঝারি মাত্রায় স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঢাকা অঞ্চলে ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১ হাজার ৬১৪টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ বলে ধরা হয়েছে। যদিও সেনাবাহিনীর হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা শহরে মাত্র দু’টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়েছে। নির্বাচনের দিন সারা দেশে প্রায় সাড়ে ৯ লক্ষ বিভিন্ন বাহিনীর নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্বে থাকবেন। প্রয়োজনে ড্রোন ও বডিক্যামের ফুটেজ ব্যবহার করা হবে বলেও জানিয়েছে কমিশন।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টা (ভারতীয় সময় অনুযায়ী) পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। মোট ২৯৯টি আসনে ভোট হচ্ছে। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় সেখানে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল ভোটে লড়ছে। প্রার্থীর সংখ্যা ২০২৮। তাঁদের মধ্যে মহিলা রয়েছেন ৮৩ জন। ২০ জন মহিলা কোনও দলের টিকিট ছাড়াই স্বতন্ত্র ভাবে লড়ছেন। এবারে ভোটাররা একসঙ্গে দু’টি বিষয়ে ভোট দেবেন—একটি প্রার্থী নির্বাচনের জন্য এবং অন্যটি প্রস্তাবিত সংস্কার নিয়ে গণভোটে মতামত জানানোর জন্য। জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটের ক্ষেত্রে ক্ষেত্রে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-তে ভোট দিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ভোটের ফল প্রকাশ করতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ অগস্ট গণঅভ্যুত্থানের জেরে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এই প্রথম জাতীয় নির্বাচন হতে চলেছে বাংলাদেশে। এবারের ভোটে আওয়ামী লীগ অংশ নিচ্ছে না। মূল লড়াই হবে বিএনপি-র নেতৃত্বাধীন জোট ও জামায়াতের জোটের মধ্যে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লক্ষ, যার মধ্যে প্রায় ৩.৫৮ শতাংশ নতুন ভোটার।





