Header AD
Trending

উত্তেজনা, ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ, নজরদারির মাঝেই বাংলাদেশের নির্বাচন; ভোট দিলেন ইউনুস, তারেক ও শফিকুর

ছাপ্পা ও কারচুপির অভিযোগের আবহে বাংলাদেশে চলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আওয়ামি লিগকে বাইরে রেখেই এই ভোট, ফলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম উত্তেজনাপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন ঢাকার দিকে। বিএনপি না জামাত, কার দখলে যেতে চলেছে ক্ষমতা? সেই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, ভবিষ্যতে কি বাংলাদেশ ধর্মতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দিকে এগবে?

সকাল সাড়ে সাতটা থেকে দেশের ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে ভোট আপাতত স্থগিত। এদিন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। গুলশানে ভোট দেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান, যিনি ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬—এই দুই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে ঢাকার এক ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন জামাতে ইসলামির প্রধান শফিকুর রহমান। ভোট দিয়ে বেরিয়ে ইউনুস বলেন, আজ থেকেই “নতুন বাংলাদেশ” গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, এটি দুঃস্বপ্নের অবসান ও নতুন স্বপ্নের সূচনা। সবাইকে গণভোটে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, মানুষ যদি ভোটকেন্দ্রে আসে, তাহলে যে কোনও ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া সম্ভব। দীর্ঘদিন পর মানুষ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


অন্যদিকে শফিকুর রহমান ভোট দেওয়ার পর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমেই যেন দেশের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়। আওয়ামি লিগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জে এদিন ভোটার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান এলাকাতেও সেই ছবি ধরা পড়ে। এই কেন্দ্র থেকেই দীর্ঘদিন নির্বাচনে লড়তেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় নির্বাচনকে ঘিরে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, রাতের অন্ধকারে ব্যালটে ছাপ মারা হয়েছে এবং ব্যাপক রিগিং চলছে। ভোট শুরুর আগেই বুধবার রাতে বাগেরহাটের বারুইপাড়ায় ভোটারদের মধ্যে টাকা বিলির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামাত কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। প্রায় ১২ কোটি ৭০ লক্ষ ভোটার আজ ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন। মূলত দ্বিমুখী এই লড়াই—একদিকে বিএনপি, অন্যদিকে জামাতে ইসলামি ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (NCP)। ফলাফলই ঠিক করবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিশা।